পার্কস্ট্রিটের জনপ্রিয় একটি রেস্তোঁরায় মটনের পরিবর্তে বিফ দেওয়া হয়েছে এই অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হন অভিনেতা – ইনফ্লুয়েন্সর সায়ক চক্রবর্তী (Sayak Chakraborty)। বিষয়টি গড়ায় থানা পর্যন্ত। যেভাবে অলি পাবের (Oly Pub) কর্মচারী এবং ম্যানেজারকে হেনস্থা করেছেন তিনি, তার বিরোধিতায় করেছেন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের একটা বড় অংশ। শুধু তাই নয় সায়ক যে কনটেন্ট তৈরি করার জন্য হিন্দু মুসলিম বিভেদ তৈরি করার চেষ্টা করছেন, তাই নিয়েও আলোচনা তুঙ্গে। এসবের মাঝেই এবার ইনফ্লুয়েন্সরকে একহাত নিলেন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunoday Bandopadhyay)। নিজের পোস্টে তিনি লিখলেন, ‘বাংলার শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ হলে হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হত।’

অলি পাবের ঘটনার কথা উল্লেখ করে রাহুল বলেন, ‘একজন মানুষের ভুল কি এতটাই বড় যে, তার সঙ্গে ধর্ম, ঘৃণা আর প্রকাশ্য অপমানকে জুড়ে দিতে হবে? আজকের ভারতের যে সামাজিক পরিস্থিতি, যেখানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয়ের প্রশ্নে আগুনের মতো সংবেদনশীল, সেখানে “আপনার ধর্ম কী” বা “আপনাকে শুয়োর খাওয়াব” জাতীয় মন্তব্য শুধু অসংবেদনশীল নয়, ভয়ংকরও।’ সায়ক, অনন্যা, সুকান্তর ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পরই আরও একটি ছবি নেটপাড়ায় ঘোরাফেরা করছে। যেখানে ইন্ডাস্ট্রির এক সতীর্থ সংখ্যালঘু বন্ধুর সঙ্গে ইদের দিনে এক টেবিলে খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে ঘুরতে যাওয়া সবটাই করেছেন সায়ক। অথচ, রেস্টুরেন্টে অবলীলায় একজন ওয়েটারের ধর্ম টেনে অপমান করলেন। বিষয়টা যে ইচ্ছাকৃত তা আন্দাজ করে রাহুল বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না, এটা অজান্তে হয়েছে। কারণ সায়কের দাদা একজন সাংবাদিক। বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে নিয়মিত মত প্রকাশ করেন। সেই ফিড আমি নিজে দেখেছি। অর্থাৎ রাজনীতি, সমাজ, সংবেদনশীলতা— এসব সম্পর্কে অজ্ঞতার প্রশ্নই ওঠে না। তাই এই ঘটনাকে নিছক ভুল বলা কঠিন। এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে হয়। সমাজের উচিত একে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করা। পাশাপাশি এটা উত্তরপ্রদেশে হলে যে এই ঘটনা মারাত্মক হিংসার আকার নিতে পারত, সেই আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন অভিনেতা। সমাজে একজন নেট প্রভাবের ভূমিকা এই মুহূর্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সে ক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল সায়কের, এমন কথায় বলছেন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা।

–

–

–

–

–

–

–

–


