বাংলার মানুষের উপর ভিন রাজ্যে গেলেই অত্যাচার। একের পর এক প্রকল্পে টাকা বন্ধ করে বাংলার প্রতি বিজেপির বঞ্চনায় সরাসরি প্রভাবিত বাংলার মানুষ। শেষ কাঁটা হিসাবে নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রয়োগ। আর তাতেই হয়রানির শিকার বাংলার মানুষ বিজেপির থেকে যে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তা বুঝতে বাকি নেই বঙ্গ বিজেপির (Bengal BJP) নেতাদের। শেষ আশা ছিল বাজেট। কিন্তু সেখানে বাংলার ভাঁড়ারে যেভাবে রসগোল্লা ঢেলে দিয়েছেন নির্মলা সীতারমন (Nirmala Sitharaman), তাতে নির্বাচনের আগে অথৈ জলে বঙ্গ বিজেপি। কেন বাংলার জন্য কোনও বরাদ্দ নেই, তার উত্তর দিতে কার্যত বাজেটকেই ‘অন্ধ’ হতে হয় বলে ব্যাখ্যা বঙ্গ বিজেপি নেতাদের।

কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-এর পরে কার্যত আতসকাঁচ দিয়ে খুঁজতে হচ্ছে বাংলার জন্য বরাদ্দ। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, বাংলার জন্য ডানকুনি থেকে সুরাট ফ্রেট করিডোর (freight corridor) ঘোষণা করা হয়েছে। যে সাতটি হাই স্পিড রেল করিডোর (high speed rail corridor) ঘোষণা হয়েছে তার মধ্যে একটি বারাণসী থেকে শিলিগুড়ি। রাজ্যের কোনও একটি শহরে পূর্ব ভারতের পর্যটন প্রকল্প হবে। পূর্ব উপকূলের জন্য় বরাদ্দে উন্নয়নের কাজ হলে তাতে উপকৃত হবে বাংলার উপকূলীয় অঞ্চল।

কিন্তু বিরোধী দলনেতা যা খেয়াল করছেন না, তা হল – এই প্রকল্পে আলাদাভাবে বাংলার জন্য বরাদ্দের কোনও উল্লেখই নেই। সেই সঙ্গে এই সবই দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প। তাতে বর্তমানে বাংলার আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা বা মানোন্নয়নে কোনওভাবে কেন্দ্রের প্রকল্প কাজে আসবে না। পাশাপাশি যে রেল করিডোর বা ফ্রেট করিডোরের কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন, তা নতুন নয়। পুরোনো যে প্রকল্প কেন্দ্রের সরকার নিয়েছিল, তারই নাম আবার আওড়েছেন অর্থমন্ত্রী।

তাহলে কোথায় গেল বাংলার জন্য বরাদ্দ। প্রশ্ন করতেই হঠাৎ গণতন্ত্রের পূজারি বঙ্গ বিজেপি। বিধায়ক অশোক লাহিড়ীর (Ashoke Lahiri) ব্য়াখ্যা, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কী ভয় পাচ্ছেন। বাংলায় তৃণমূলের বিরাট বিজয় হবে এই ভয়ে টাকা দিচ্ছেন না, কি না জানি না। মোটামুটি ভারতবর্ষের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো (federal structure)। একটি প্রদেশকে দিলে আরেকটি প্রদেশকে দিতে হয়। বিচার ব্যবস্থাকে যেমন অন্ধ হতে হয়, সেরকম বাজেটও মোটামুটি অন্ধ হতে হয়।

তাহলে ২০২৫ বাজেটের সময়ে কোথায় ছিল বিজেপির মোদির সরকারের এই গণতন্ত্রের বোধ? প্রশ্নে আবারও হিমসিম খেলেন বিজেপি পোড় খাওয়া অর্থনীতিবিদ লাহিড়ী। তাঁর ব্য়াখ্যা, মাখানা গুজরাট বা হরিয়ানাতে হয় না। এখন মাখানা অনেক দাম। সেটা যদি বানাতে হয় তবে বিহারেই বানাতে হবে। বিশেষভাবে বিহারের কথা জিজ্ঞাসা করলে আলাদা ব্যাপার।

আরও পড়ুন : বিতর্কে প্রলেপের চেষ্টা! বাজেটে ১০০দিনের কাজ থেকে খাদির ‘প্রকল্পে’ স্থান জাতির জনকের

বাংলাকে কেন বঞ্চিত করা হল, তার উত্তরে বিজেপিকে ফের সেই আশ্রয় নিতে হচ্ছে কেন্দ্রের প্রকল্প বাংলার না চলার বাংলার সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনায়। কেন্দ্রের সঙ্গে বারবার সংঘাতে গিয়ে বাংলা যে নিজেই নিজের বরাদ্দের পথে কাঁটা হয়েছে, তাও বলে ফেললেন বিধায়ক অশোক লাহিড়ী। তিনি দাবি করেন, বাংলায় প্রথমেই আয়ুষ্মান ভারত আসার পরে শুরু হল। তারপর ১৭০ কোটি টাকা ফেরৎ দিল। না করুঙ্গা ন করনে দুঙ্গা। তারপর দুর্নীতি। সেখানে কিছু সমস্যা তো রয়েছে। বাংলার ভারত সরকারের সম্পর্কে একটা বিষয় রয়েছে।

–

–

–


