দুধের সমবায় করেই নাম করেছিল গুজরাট (Gujrat)। যে দুগ্ধ শিল্প ১৯৪৬ সালে গুজরাটে তৈরি হয়েছিল, তার খ্যাতি বিশ্বজোড়া। সেই সমবায়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল, মোরারজি দেশাইয়ের মতো মানুষের নাম। আর নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) নিজের দুর্নীতির জমানায় সেই গুজরাটের এমন অবস্থা করেছেন, যে গুজরাটের মানুষই খাচ্ছেন ভেজাল দুধ। সবরকণ্ঠ এলাকায় পাঁচ বছর ধরে ভেজাল দুধ তৈরি হলেও নীরব মোদি। চক্র ফাঁস হতেই উঠেছে মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন। মোদি প্রমাণ করে দিলেন বৃহদাকার বল্লভভাই প্যাটেলের মূর্তি বানালেও নিজে তাঁর আদর্শকে পায়ের তলায় মাড়িয়েই চলেন।

শুক্রবার সবরকণ্ঠ স্থানীয় অপরাধ দমন শাখা, খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রণ দফতর এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের যৌথ অভিযানে প্রান্তিজ তালুকের সালাল গ্রামের কাছে এই কারখানার হদিস মেলে। কারখানাটির নাম শ্রী সত্য ডেইরি প্রোডাক্টস। অভিযানে জানা গিয়েছে, বিগত পাঁচ বছর ধরেই এখানে জল, গুঁড়ো দুধ, কস্টিক সোডা, পরিশোধিত পামোলিন তেল, পরিশোধিত সয়াবিন তেল, ডিটারজেন্ট পাউডার এবং ইউরিয়া সার মিশিয়ে দুধ তৈরি করা হত। কারখানা থেকে প্রায় ৭২ লক্ষ টাকার ভেজাল দুধ, কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। যার মধ্যে ৪৫০ কেজি হোয়ে পাউডার, ৬২৫ কেজি এসএমপি (স্কিম মিল্ক পাউডার), ৩০০ কেজি প্রিমিয়াম এসএমপি, ১,৯৬২ লিটার ভেজাল দুধ, ১,১৮০ লিটার ভেজাল ঘোল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হলেও মূল অভিযুক্ত এখনও পলাতক। আরও পড়ুন: অন্ধকার থেকে স্বীকৃতির আলো: ডাঃ সুভাষ মুখোপাধ্যায়

দুধের গুণমান পরীক্ষায় জানা গিয়েছে, প্রতিদিন মাত্র ৩০০ লিটার আসল দুধ ব্যবহার করে তাতে জল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়ে প্রায় ১,৭০০ থেকে ১,৮০০ লিটার ‘দুধ’ তৈরি করা হতো। এই ভেজাল দুধ-ই বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হত। এই ঘটনা ফের প্রমাণ করে মোদির নিজের রাজ্যেরই প্রশাসনিক ব্যর্থতা। আর যার ফল ভুগতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। যে গুজরাটকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপির নেতারা বারবার ‘মডেল রাজ্য’ বলে বিভিন্ন ভাষণে তুলে ধরেন, সেই রাজ্যেই টানা ৫ বছর ধরে শত শত গ্রামবাসীকে ডিটারজেন্ট, ইউরিয়া ও রাসায়নিক মিশ্রিত ভেজাল দুধ খাওয়ানো হয়েছে। প্রশাসনের নাকের ডগার উপর দিয়ে এই সব দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসন নাকি তা টেরও পাননি।

–

–

–

–

–

–

–

