শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী ইরানের (Iran Human Rights Worker) মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদিকে (Narges Mohammadi) নতুন করে সাত বছরের বেশি কারাদণ্ডের নির্দেশ! দু’বছরের জন্য ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা এবং অভ্যন্তরীণ নির্বাসনের সাজা দিয়েছে ইরানের আদালত। ফেব্রুয়ারির শুরুতে অনশন শুরু করার পর তাঁর বিরুদ্ধে এই নতুন সাজা ঘোষণা করা হয় বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী ও সমর্থকেরা।

নার্গিস মোহাম্মদির আইনজীবী মোস্তফা নিলির বরাতে তাঁর সমর্থকেরা জানান, শনিবার উত্তর–পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরের একটি বিপ্লবী আদালত এই রায় ঘোষণা করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নিলি জানান, “সমাবেশ ও যোগসাজশের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত থাকার” অভিযোগে নার্গিস মোহাম্মদিকে ছ’বছরের কারাদণ্ড এবং সরকারের বিরুদ্ধে ‘প্রচারণা চালানোর’ অভিযোগে দেড় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে দুই বছরের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ৭৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ–পূর্বে খোসফ শহরে দুই বছরের অভ্যন্তরীণ নির্বাসনের সাজাও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।

নার্গিস মোহাম্মদির সমর্থকদের দাবি, ২ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি অনশনে রয়েছেন। গত বছরের ডিসেম্বরে মাশহাদে আয়োজিত একটি স্মরণসভা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ৪৬ বছর বয়সী মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী খোসরু আলিকোর্দির স্মরণে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে নার্গিস মোহাম্মদি বিচার দাবিতে স্লোগান দিচ্ছিলেন—এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগেই তাঁর সমর্থকেরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে চিকিৎসার কারণে দেওয়া সাময়িক মুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হতে পারে। যদিও তিন সপ্তাহের জন্য দেওয়া সেই মুক্তির মেয়াদ পরে বাড়ানো হয়। মানবাধিকার সংগঠন ও পশ্চিমা দেশগুলোর চাপের কারণেই তাঁকে তখন মুক্ত রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। এমনকি চলতি বছরের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাত চলাকালীন সময়েও তিনি মুক্ত ছিলেন। আরও পড়ুন: সংসদে হামলা চালাবে খালিস্তানিরা! দিন সময় জানিয়ে এলো হুমকি মেল

মুক্ত অবস্থাতেও নার্গিস মোহাম্মদি আন্দোলন চালিয়ে যান। তিনি প্রকাশ্যে বিক্ষোভে অংশ নেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন এবং তেহরানের কুখ্যাত এভিন কারাগারের সামনেও প্রতিবাদে অংশ নেন। ৫৩ বছর বয়সী এই মানবাধিকারকর্মীকে গত দুই দশকে কমপক্ষে ১৫ বার গ্রেফতার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় তাঁকে কারাবন্দী অবস্থায় কাটাতে হয়েছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এভিন কারাগারে। ইরানে নারীদের ওপর নিপীড়ন, মৃত্যুদণ্ড ও রাষ্ট্রীয় দমননীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকার জন্যই তিনি ২০২৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। সে সময় কারাগারে বন্দী থাকায় তাঁর সন্তানরাই নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেন।

–

–

–

–

–

–
–

