অনলাইন গেমের (Online game) নেশা যে কতটা মারাত্মক হতে পারে, তার এক ভয়াবহ সাক্ষী থাকল মিরাট(Mirat)। টানা পাবজি(PUBG) খেলার উত্তেজনায় রক্তচাপ ৩০০ ছাড়িয়ে যাওয়ায়, ব্রেন হেমারেজ (Brain hemorrhage) হয়ে শেষ হয়ে গেল এক তরতাজা প্রাণ।

মৃতের নাম মহম্মদ কাইফ (২২)। মিরাটের খয়েরনগরের বাসিন্দা কাইফ ছিলেন পেশায় রিয়েল এস্টেট (Real estate)ব্যবসায়ীর ছেলে। গত শুক্রবার সকালে বাবার অফিসেই বসে মগ্ন ছিলেন প্রিয় অনলাইন গেম পাবজিতে। কানে ছিল নয়েজ-ক্যানসেলিং হেডফোন (Noise cancelling headphone)। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গেমের দুনিয়ায় ডুবে থাকা অবস্থাতেই হঠাৎ চেয়ার থেকে ছিটকে পড়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে যান কাইফ।
দ্রুত তাঁকে দিল্লির সফদরজঙ্গ হাসপাতালে (Safdarjung hospital,Delhi) নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা চমকে ওঠেন। দেখা যায়, তাঁর রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেশার (Blood pressure)বা ৩০০ পার করে গিয়েছে। এই প্রচণ্ড চাপে মস্তিষ্কের ভেতরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। দু’দিন পর চিকিৎসারত অবস্থাতেই হাসপাতালেই মৃত্যু হয় তাঁর। আরও পড়ুন: হাওড়ার মঙ্গলাহাটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, মৃত ২

নিউরোলজিস্টরা (Neurologist) এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনাকে ‘সাডেন গেমার ডেথ’ (Sudden gamer death)হিসেবে চিহ্নিত করছেন। চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অনলাইন গেমের উত্তেজনায় শরীরে প্রচুর পরিমাণে অ্যাড্রিনালিন হরমোন( Adrenaline hormone) নিঃসরণ হয়। জেতার প্রবল ইচ্ছা এবং হারার ভয় থেকে তৈরি হওয়া তীব্র মানসিক চাপ রক্তচাপকে একধাক্কায় বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছে দেয়। এছাড়া নয়েজ-ক্যানসেলিং হেডফোন বাইরের জগত থেকে গেমারকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেয়, ফলে উত্তেজনার মাত্রা আরও বাড়ে।

পরিবারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, কাইফ দিন-রাত সোশ্যাল মিডিয়া আর গেমিংয়ে বুঁদ হয়ে থাকতেন। রাত জেগে রিল বানানো আর অনলাইন গেম খেলাই ছিল তাঁর নেশা। বাড়ির লোক বারবার নিষেধ করলেও তিনি কানে তোলেননি। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব আর লাগাতার মানসিক চাপই শেষ পর্যন্ত কাইফের শরীরকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খেয়েছিল। আজকের প্রজন্মের কাছে এই ঘটনা এক বড়সড় সতর্কবার্তা।

–

–

–

–

–

–

