ভারত-সিঙ্গাপুর অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক বিনিয়োগ সিঙ্গাপুর সফরে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (The Confederation of Indian Industry) প্রতিনিধি দল। এই সফরে CII কোর গ্রুপ সিঙ্গাপুরের শিল্পপতি থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একটি গোলটেবিল বৈঠক করে।যেখানে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব থেকে শুরু করে ডিজিটাল অর্থনীতি, উৎপাদন, এমনকি বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উঠে এসেছে দুই দেশের একসঙ্গে বাণিজ্য সংক্রান্ত কাজের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার একাধিক প্রসঙ্গও।

সিঙ্গাপুরে ভারতের হাইকমিশনার ড. শিল্পক আম্বুলে বৈঠকে অংশ নিয়ে ভারতের অবস্থান সুসংহত করেছেন। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ভারতীয় অর্থনীতির প্রসঙ্গের পাশাপাশি ডিজিটাল যুগে AI প্রযুক্তির সহযোগিতার কথাও।প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন কোর গ্রুপের নেতা এবং টাটা সন্সের নির্বাহী চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন। অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (CII) এর তরফে চন্দ্রজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, ইওয়াই গ্রোথ মার্কেটস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাজীব মেমানি, বাজাজ ফিনসার্ভ লিমিটেডের চেয়ারম্যান সঞ্জীব বাজাজ, ফোর্বস মার্শালের সহ-সভাপতি নওশাদ ফোর্বস, ভারত বায়োটেকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুচিত্রা এলা, ত্রিবেণী টারবাইনের ভাইস চেয়ারম্যান নিখিল সাহনিএবং ডায়নাম্যাটিক টেকনোলজিসের সিইও উদয়ন্ত মালহোত্রা। সিঙ্গাপুর বিষয়ক সিআইআই কোর গ্রুপ ১০ ফেব্রুয়ারি থারমান শানমুগরত্নমের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করে। সিঙ্গাপুরের শিল্পপতিদের মধ্যে আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন ব্ল্যাক স্টোন সিঙ্গাপুরের চেয়ারম্যান গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়, এস বি এফ ইন্ডিয়া বিজনেস কমিটি ও ইউনিভার্সাল সাকসেস এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান প্রসূন মুখোপাধ্যায়, ক্যাপিটাল ল্যান্ড ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান কিশোর মুরজানি-সহ অন্যান্যরা।

সিঙ্গাপুরে আয়োজিত বৈঠকে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতিতে ভারতের অবস্থানের কথা উঠে আসে। উন্নত উৎপাদন এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ভারতের দক্ষতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত সম্প্রসারণ এবং সাপ্লাই চেইন সিস্টেম নিয়েও আলোচনা হয়। ভারত ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের উপরও জোর দেওয়া হয়েছিল। এই পদক্ষেপের পথে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম, ২০২৫ সালের নভেম্বরে বেঙ্গালুরুতে (Bangalore)চালু হওয়া সিঙ্গাপুর এন্টারপ্রাইজ সেন্টার। সে দেশের যেসব সংস্থা ভারতীয় বাজারে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক তাদের জন্য এটি সিঙ্গেল উইন্ডো হিসেবে কাজ করছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সেমিকন্ডাক্টর-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি নীতিগত সহায়তাও প্রদান করা হয় এই সংস্থার তরফে। ২০২৭ সালের মধ্যে প্রায় ৪৭০টি সংস্থাকে সহায়তা করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ভারতের সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০ ও প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI) প্রকল্পের সাফল্যে উন্নত উৎপাদন ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এই খাতে ২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ এসেছে। এর ফলে সিঙ্গাপুরের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং প্রযুক্তি সংস্থাগুলির জন্য ভারতে উৎপাদন কেন্দ্র বা যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা দুই দেশের সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই মনে করছেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। রাষ্ট্রপতি থারম্যান সিঙ্গাপুরে ফলপ্রসূ বৈঠকের জন্য প্রতিনিধিদলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আগামীতেই ভারত-সিঙ্গাপুর বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

–

–

–

–

–

–

–


