গেরুয়া শিবিরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। ফের পূর্ব মেদিনীপুরে (East Medinipur) বিজেপিতে (BJP) ভাঙন। পদ্ম ছেড়ে ঘাসফুলে যোগ দিলেন ময়নার প্রভাবশালী বিজেপি নেতা চন্দন মণ্ডল (Chandan Mandol)। শুক্রবার কলকাতায় তৃণমূল (TMC) ভবনে তাঁর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya), দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) ও তমলুক সাংগঠিক এলাকার নেতা সুজিত রায়। তৃণমূলে যোগ গিয়েই চন্দনের অভিযোগ, ময়নার বিজেপি বিধায়ক এলাকাবাসীর জন্য কোনও কাজ করেননি।

পূর্ব মেদিনীপুরের বিজেপি সূত্রে খবর, ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দার একেবারে বিপরীত গোষ্ঠীর নেতা ছিলেন চন্দন মণ্ডল। ২০২১-এর নির্বাচনে তিনিই প্রার্থী হবেন বলে শোনা যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হন ক্রিকেটার অশোক দিন্দা। নির্বাচনে জয়ী হন তিনি। এর পরেই দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে চন্দনের। ব্লক কনভেনারের পদ থেকেও তাঁকে সরানো হয়। BJP-র কোনও প্রচারেও সে ভাবে ডাকা হয়নি তাঁকে।

এদিন তৃণমূলে (TMC) যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের চন্দন জানান, রাজনৈতিক নয়, নৈতিক কারণেই এই সিদ্ধান্ত। তাঁর অভিযোগ, জল যন্ত্রণা, ময়না নীচু এলাকা, প্রতি বর্ষায় মানুষ ভুক্তভোগী। কিন্তু পাঁচ বছরে বিজেপি বিধায়ক কোনও কাজ করেননি। চন্দনের কথায়, ”ময়নার মানুষের জন্য আমি কাজ করতে চাই। ওখানে এতদিন ধরে বিজেপির একজন বিধায়ক আছেন, কিন্তু তিনি কিছুই করেননি মানুষের জন্য। ময়নার মানুষ মূলত মৎস্যজীবী। তাঁদের মাছচাষ নিয়ে হাজার সমস্যা আছে। আমি সেসব মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছিলাম, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জানিয়েছিলাম। তাঁরা আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে সমাধান করবেন। আমি চাই, তৃণমূলের উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে থেকে যাতে যাতে ময়নাবাসীর সমস্যার সমাধান করতে পারি।”

কুণালের কথায়, “বিজেপির এই ভাঙনের মূলে রয়েছে আদি বনাম তৎকাল লড়াই। যারা মানুষের জন্য কাজ করছেন, তাঁদের মাথার ওপর বসে অসম্মান করা হচ্ছে। আত্মসম্মান বাঁচাতে মানুষ তৃণমূলের দিকে ঝুঁকছে। এটা তো কেবল ট্রেলার, পিকচার আভি বাকি হ্যায়!”

এর পাশাপাশি চন্দন দাবি করেন, বাকচা ও গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় কয়েক মাসে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢোকেনি। তিনি বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেছেন। সদ্য তৃণমূলের যোগ দেওয়া নেতা জানান, ”আমি মুখ্যমন্ত্রীকে এই ব্যাপারে চিঠি লিখি। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, সকলে খুব দ্রুত টাকা পাবেন। এর পরে তাঁরা টাকা পেয়েছেন। কিন্তু এখনও পাঁচ-ছয় মাসের টাকা বাকি। আমি আবেদন করেছি, এই টাকা যাতে দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হবে।” চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, ”লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে কোনও সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রে বিজেপি বা তৃণমূলের যে কোনও ভাগাভাগি থাকে না, তা গোটা বাংলা বলবে। তাঁরা ঠিক মতো ফর্ম ফিল আপ করেন কি না, তা বলা যায় না। হয়তো টেকনিক্যাল কোনও সমস্যা হয়েছে।”
আরও খবর: নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সরকার গড়ার পথে বিএনপি, ‘তারেক ভাই’কে অভিনন্দন বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর

তবে, উল্লেখ যোগ্যভাবে চন্দন মণ্ডলের স্ত্রী এখনও বিজেপির পঞ্চায়েত প্রধান। তবে, চন্দনের যোগদান বিজেপি গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আরও একবার স্পষ্ট করে দিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, চন্দনের হাত ধরেই বিজেপিতে বড় রকমের ধস হবে। আগামী দিনে ময়নায় বিজেপির অস্তিত্ব রক্ষাই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

–

–

–

–


