চলতি রাজ্য বাজেটে বাংলার সরকার বেকার ভাতা চালু করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এপ্রিল মাস থেকেই যুব সম্প্রদায় তার সুবিধা পাবে। সেই উদাহরণ তুলে এবার রাজ্যসভায় গোটা দেশের জন্য ন্যূনতম বেতন কাঠামো বাধ্যতামূলক করার দাবি তুললেন তৃণমূলের দলনেতা ডেরেক ও ব্রায়েন (Derek O’Brien)। তাঁর দাবি, বাংলার সরকারের থেকে শিক্ষা নিয়ে বেকার (unemployed) এবং শ্রমিকদের (labour) পাশে দাঁড়াক মোদি সরকার। শুক্রবার রাজ্যসভায় (Rajyasabha) জিরো আওয়ারে এই ইউনিভার্সাল বেসিক মিনিমাম ওয়েজের (universal basic minimum wage) প্রয়োজনীয়তাও ব্যাখ্যা করলেন তিনি। এবং এবিষয়ে বাংলাকে মডেল হিসেবে তুলে ধরলেন ডেরেক। ব্যাখ্যা করলেন সমাজকল্যান প্রকল্প স্বাস্থ্যসাথী এবং কন্যাশ্রীর উপযোগিতা এবং সাফল্য। বাংলার নয়া প্রকল্প যুবসাথীতে দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ ২১-৪০ বছরের কর্মহীন যুবকদের মাসে ১৫০০টাকা অর্থসাহায্যের বিষয়টিও দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা। সবমিলিয়ে স্পষ্টভাষায় বুঝিয়ে দিলেন কর্মহীন এবং শ্রমিকদের প্রতি বাংলার সমানুভূতির কথা।

সর্বজনীন মৌলিক ন্যূনতম মজুরির পক্ষে ডেরেকের সওয়াল, প্রতি ৩ জন যুবকের মধ্যে একজনের কোনও কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। এককথায় বেকার (unemployed)। নেই শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণও। আবার যাদের কাজ রয়েছে, তাদের ন্যূনতম মজুরি বা বেতনের কোনও নিশ্চয়তা নেই আদৌ। ন্যূনতম জীবনযাত্রার মানের উপরে ভিত্তি করে নির্মিত ন্যাশনাল ওয়েজ ফ্লোর (National Wage Floor) গত একদশক ধরে কার্যত আটকে রয়েছে দৈনিক ১৭৬টাকা মজুরিতেই।

সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, অত্যন্ত নিম্ন আয় মানুষের ক্রয়ক্ষমতার উপরে অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কমে যাচ্ছে ক্রয়ক্ষমতা। যার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি, নিদারুণ দারিদ্র্যে বন্দি হয়ে পড়ছে শ্রমিকশ্রেণি।

তাহলে সমাধান কোথায়? ডেরেকের মতে, আইনসঙ্গতভাবে এমন একটি সর্বজনীন ন্যূনতম মজুরি বেঁধে দিতে হবে যাতে দেশের কোনও শ্রমিকের মজুরি তা থেকে কম না হয়। কাজের ক্ষেত্র, কাজের জায়গা এবং চুক্তির শর্ত বা ধরন যাই হোক না কেন, প্রতিটি শ্রমিককেই (labour) যেন এর আওতায় আনা হয়।

আরও পড়ুন : দিল্লিতে রাজ্যের মুখ্যসচিব: পদক্ষেপের তথ্য পেশ

তাঁর প্রস্তাব, নতুন প্রকল্পের নাম হোক ইউনিভার্সাল মিনিমাম অ্যানুয়াল ন্যাশনাল গ্যারান্টি বা উমাং। এব্যাপারে ৪টি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন ডেরেক। বেতন আইনের মূল কাঠামোর মধ্যে সারাদেশে একটি বাধ্যতামূলক ন্যূনতম বেতন কাঠামো ঘোষণা।

–

–

–

–


