জয়িতা মৌলিক
ঘরে বাইরে চাপের মুখে সিপিএম (CPIM)। একদিকে যেমন প্রতীক উরের মতো নেতারা দল ছেড়ে দলের বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক মন্তব্য করছেন, তেমন নারীঘটিত কেলেঙ্কারি পিছু ছাড়ছে না বামেদের। তন্ময় ভট্টাচার্য, বংশগোপাল চৌধুরী, সুশান্ত ঘোষ পেরিয়ে তালিকায় এখন এক আইনজীবী। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে বামেদের হয়ে গলা ফাটানো সেই কালো কোটধারী আরজি কর আন্দোলনের (R G Kar Movment) সময় মৃতার বিচারের দাবিতে গলা ফাটিয়েছিলেন। অথচ তাঁর বিরুদ্ধেই আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে জমা পড়েছে ভয়ংকর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ! আর সেই অভিযোগ কোনও বাইরের মহিলা নন, করেছেন দলেরই এক মহিলা কমরেড যিনি পেশায় আইনজীবী। তিনি ওই অভিযুক্তর জুনিয়র হিসেবে কাজ করেছেন। এই বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূলের (TMC) রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তিনি লেখেন, “সিপিএমের এক উগ্র চাকরিখেকো আইনজীবীর বিরুদ্ধে পার্টির রাজ্য সম্পাদকের কাছে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন তাঁরই সঙ্গে কর্মরত এক সিপিএমপন্থী মহিলা আইনজীবী।“

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদককে (State Secretary) লেখা তিনপাতার চিঠির ছত্রে ছত্রে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন ওই মহিলা আইনজীবী। নিজের সবিস্তার পরিচয় দিয়ে দাবি করেছেন, তিনি একা নন, ওই ‘কমরেড’-এর লালসার শিকার অনেক মহিলা আইনজীবীই (Advocate) যাঁরা তাঁর চেম্বারে তার সঙ্গে কাজ করেছেন।

প্রশ্ন উঠছে, তাহলে তাঁরা এতদিন বলেনি কেন? আর ইনিই বা কেন পুলিশ-প্রশাসনের দ্বারস্থ না হয়ে আলিমুদ্দিনে (Alimuddin Street) দরবার করছেন? উত্তর রয়েছে অভিযোগপত্রেই। সেখানে ওই নির্যাতিতা লিখেছেন, ভয় দেখিয়ে সবার মুখ বন্ধ করে রেখেছেন নিজেকে বামেদের বড় নেতা বলে দাবি করা ওই আইনজীবী। নিজেকে অত্যন্ত প্রভাবশালী বলে দাবি করা ওই আইনজীবীকে সন্ধে হলেই প্রথমসারির সংবাদমাধ্যমের টক শোতে বামেদের হয়ে গলা ফাটাতে দেখা যায়। সেই কারণে তিনি হুমকি দেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে লাভ হবে না।

শাসকবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলন মঞ্চেও গিয়ে গলা ফাটাতে দেখা গিয়েছে ওই আইনজীবীকে। চাকরিহারাদের মঞ্চ থেকে থেকে বেরিয়ে চাকরি আটকাতে আদালতে ছুটে গিয়েছেন তিনি। তাঁর দ্বিচারিতার কথা এর আগে তৃণমূল নেতৃত্ব বারবার উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এবার তাঁর বিকৃত মানসিকতার পরিচয় সামনে আসছে। দিনের পর দিন মহিলা জুনিয়র আইনজীবীদের পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তাঁদেরকে ভয় দেখিয়ে যৌন নির্যাতন করেছেন। তাঁকে রীতিমতো ‘ধারাবাহিক হেনস্থাকারী’ বলে মন্তব্য করেছেন অভিযোগকারিনী।

এর আগে সুশান্ত ঘোষ, তন্ময় ভট্টাচার্য বা বংশগোপাল চৌধুরীর বিরুদ্ধে এই ধরনের নারীঘটিত কেলেঙ্কারির অভিযোগ পেয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে সিপিএম (CPIM)। কিছুদিনের জন্য হলেও শাস্তি পেয়েছেন অনেকেই। নির্যাতিতা সেই আশার কথা চিঠিতে উল্লেখ করে দলের সিদ্ধান্তে আস্থা রেখেছেন। তাঁকে ‘বিশ্ববাংলা সংবাদ’ প্রশ্ন করেছিল, যদি দলের তরফ থেকে সদুত্তর না মেলে, তাহলে কি তিনি প্রশাসনের দ্বারস্থ হবেন? ওই মহিলা আইনজীবী জানান, এখনই এমন কোনও চিন্তা নেই তাঁর। আশা আলিমুদ্দিনই সুবিচার করবে।

এই বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক। নিজের স্যোশাল মিডিয়া পেজে তিনি লেখেন, “সিপিএমের এক উগ্র চাকরিখেকো আইনজীবীর বিরুদ্ধে পার্টির রাজ্য সম্পাদকের কাছে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন তাঁরই সঙ্গে কর্মরত এক সিপিএমপন্থী মহিলা আইনজীবী। কীভাবে নেতাদের নাম জড়িয়ে এবং মিডিয়ার প্রচার ব্যবহার করে অসুরটাইপ অভিযুক্ত নানা অপকর্ম করছে, তার সবিস্তার বর্ণনা আছে চিঠিতে। মহিলা যেহেতু পার্টি করেন, পুলিশে যাওয়ার আগে পার্টির কাছেই বিচার চেয়েছেন। চার নেতার কাছে চিঠির কপি আছে। আপাতত একটির কপি আমার হাতে। চিঠিটি পোস্ট করার সময় এখনও আসেনি। সিপিএম কি অভিযোগ খতিয়ে দেখবে? মহিলা তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। তাঁকে চুপ করানোর চেষ্টা হচ্ছে। চিঠির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে সিপিএম সূত্রেই পাওয়া। মামলা করে চাকরিতে জটিলতা তৈরির রাজনীতি, মিডিয়া-সোশ্যাল মিডিয়ায় ডায়লগবাজিতে অভ্যস্ত ওই সিপিএম আইনজীবীকে বাঁচাতে এবার নামবে আলিমুদ্দিনের ‘পেয়ারেলালরা’?”

Breaking: সিপিএমের এক উগ্র চাকরিখেকো আইনজীবীর বিরুদ্ধে পার্টির রাজ্য সম্পাদকের কাছে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন তাঁরই সঙ্গে কর্মরত এক সিপিএমপন্থী মহিলা আইনজীবী। কীভাবে নেতাদের নাম জড়িয়ে এবং মিডিয়ার প্রচার ব্যবহার করে অসুরটাইপ অভিযুক্ত নানা অপকর্ম করছে, তার সবিস্তার বর্ণনা আছে…
— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain) February 20, 2026
কিন্তু সত্যিই কি এক্ষেত্রে সেটা পারবে সিপিএম? কারণ, এর আগে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তাঁরা ছিলেন সিপিএমের দলীয় সদস্য। এই আইনজীবী পার্টির মেম্বার নন। সে ক্ষেত্রে এই চিঠি পাওয়ার পরে কী ব্যবস্থা নেবেন সেলিমরা? এখন সেটাই দেখার।

–

–

–
–


