Saturday, February 21, 2026

কীসের চাপ? মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের আগেই ট্রাম্প-শুল্কে মোদির স্বাক্ষরে প্রশ্ন

Date:

Share post:

সুপ্রিম কোর্টের কাছে সপাটে চড় মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের। এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে বিশ্বের দেশগুলির উপর পাল্টা শুল্ক চাপিয়েছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি, এমনটাই নির্দেশ দেশের শীর্ষ আদালতের। এরপরই সব দেশের জন্য এক মাত্রায় – ১০ শতাংশ শুল্কের (tariff) ঘোষণা করে দেন ট্রাম্প নিজে। অর্থাৎ ভারতের উপর চাপানো ১৮ শতাংশ শুল্ক কমে ১০ শতাংশে এসে দাঁড়াবে। অথচ গত প্রায় একমাস ধরে ১৮ শতাংশ হারে শুল্ক দিচ্ছে ভারতীয় পণ্য। তাহলে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশের অপেক্ষা না করে কেন মার্কিন চুক্তি স্বাক্ষর করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi), শনিবার শুল্ক কমার পরেই প্রশ্ন তুলছে বিরোধী দলগুলি।

মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট (USA Supreme Court) স্পষ্ট জানিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে পাল্টা শুল্কের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই নির্দেশের পরই মার্কিন শিল্পপতি ও শুল্কের প্রতিবাদ করা মার্কিন রাজ্যগুলিতে খুশির ছোঁয়া। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, সুপ্রিম কোর্টে এই রায় দিয়ে অত্য়ন্ত নির্বোধের মতো আচরণ করেছে। দেশের আয় বাড়ছিল প্রভূত। সেই পথে বাধা দেওয়া হল। তাই হোয়াইট হাউসের (White House) পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে সব দেশের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক জারির কথা জানানো হয়। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, এই ১০ শতাংশ শুল্কের সিদ্ধান্ত সাময়িক। অর্থাৎ এরপরেও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে তিনি যেতে পারেন।

সেই সঙ্গে স্পষ্ট করে দেন, এতদিন যে বেশি হারে শুল্ক বিভিন্ন দেশ দিয়ে এসেছে, তা ফেরৎ দেবে না আমেরিকা। সেই শুল্কের অর্থ ফেরৎ পেতে গেলে নতুন করে আদালতে গিয়ে মামলা করতে হবে, দাবি করেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প (Donald Trump)।

আরও পড়ুন : AI: ভারতের দৈনন্দিন সমস্যায় কার্যকর সমাধান

ভারতের পক্ষে ৫০ শতাংশ শুল্ক কমে ১৮ শতাংশ হওয়াতেই স্বস্তি পাওয়া গিয়েছিল। সেক্ষেত্রে ১০ শতাংশ শুল্ক হয়ে দাঁড়ানোয় খুব একটা পার্থক্য না হওয়ায় নতুন করে খুশির হাওয়া ভারতের শিল্প মহলে নেই। কিন্তু যে বর্ধিত শুল্ক এই কদিন ধরে দিতে হয়েছে ভারতীয় শিল্পপতি বা শিল্প সংস্থাগুলিকে তা ফেরৎ পাওয়ার কোনও রাস্তা নেই এখন আর। সেক্ষেত্রে লোকসানে ভারতীয় শিল্প উদ্যোগগুলিই। সেখানেই কংগ্রেসের তরফে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge) প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের বিদেশ নীতি (foreign policy) এতটাই অন্তঃসারশূন্য যে একপেশে বাণিজ্য চুক্তিতেও রাজি হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি (Narendra Modi)। কোন চাপে পড়ে তড়িঘড়ি নরেন্দ্র মোদিকে এই বাণিজ্য চুক্তির জালে জড়াতে হয়েছিল দেশের ১৪০ কোটি মানুষের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে?

spot_img

Related articles

বেঙ্গালুরুতে রহস্যমৃত্যু পরিযায়ী শ্রমিকের, পরিবারের পাশে অভিষেক

বিভিন্ন রাজ্যে বাংলার শ্রমিকের মৃত্যু অব্যাহত। কিছুতেই এই মৃত্যু থামানো যাচ্ছে না। দুবেলা দুমুঠো অন্নের জন্যে, একটু বেশি...

বাংলার অস্মিতা রক্ষায় জোট বাঁধুন: ভাষা দিবসের মঞ্চ থেকে দুর্যোধন-দুঃশাসনকে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

বাংলা ভাষার প্রতি অসম্মানের পথে হাঁটা দুর্যোধন-দুঃশাসনদের এবার ভাষা দিবসের মঞ্চ থেকে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)।...

তৃণমূলে প্রতীক উর: দলের আদর্শ তুলে ধরে বাম-বিজেপিকে ধুয়ে দিলেন অভিষেক

জল্পনার অবসান। শনিবাসরীয় বিকেলে তৃণমূলের (TMC) আমতলার কার্যালয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাকদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সঙ্গে বৈঠকের...

ভাতা তো ছিলই, প্রয়োজন কর্মসংস্থানের: জল্পনা উস্কে মন্তব্য পার্থর

ভাতা তো ছিলই, প্রয়োজন কর্মসংস্থানের। শনিবার, নিজের বিধানসভা এলাকায় জনসংযোগের বেরিয়ে এই মন্তব্য করলেন বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha...