বাংলার মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে সম্মানের পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাঁদের শক্তিতে বলিয়ান হয়েই রাজ্যে একের পর এক নতুন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে প্রশাসনিক ভাবে। সেই নারীশক্তিকে যে কোনওভাবেই তৃণমূলের উপর বিশ্বাস থেকে সরিয়ে নিজেদের দিকে টানতে পারছেন না, তা বিলক্ষণ বুঝে গেলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikary)। মাসে ৩ হাজার টাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েও সায়েন্স সিটির (Science City Auditorium) মতো হল ভরাতে পারলেন না মহিলা কর্মী সম্মেলনে (BJP Women Committee)। বিজেপি (Bengal BJP) রাজ্যে নারী সম্মানের অবক্ষয়ের কারণেই বিজেপির থেকে মুখ ফিরিয়েছে মহিলারা, দাবি বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের।

নির্বাচনের আগে ফের একবার কলকাতায় মহিলাদের নিজেদের দিকে টানার কৌশল বঙ্গ বিজেপির। সেই লক্ষ্যে রবিবার সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে নারী শক্তি স্বরূপা সম্মেলনের আয়োজন করেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রধান বক্ত হিসাবে আসেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা (Rekha Gupta)। সেখানেই আবারও শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে দ্বিগুণ টাকা ঢুকবে। অর্থাৎ বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) প্রশাসন যে দেড় হাজার টাকা দিচ্ছে, তা বিজেপি বাড়িয়ে ৩ হাজার করার প্রতিশ্রুতি এদিন আবারও দেয়।

কিন্তু বিজেপির এই প্রতিশ্রুতি যে বাংলার মহিলারা প্রত্যাখ্যান করেছেন, তা এদিনের বিজেপির মহিলা সম্মেলনের সভাঘরে ছবিতেই স্পষ্ট। মঞ্চে যখন রেখা গুপ্তা, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য থেকে শুভেন্দু অধিকারী, সকলেই উপস্থিত তখন অডিটোরিয়ামের ভরা আসনের থেকে ফাঁকা আসনের সংখ্যা বেশি। সেই ভিডিও প্রকাশ করে তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ দাবি করেন, মহিলাদের উপর জোর দেবেন। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে এসেছেন। সায়েন্স সিটিতে তাঁরা সভা করছেন। সভা চলাকালীন একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, লোক নেই। চেয়ার ফাঁকা। সায়েন্স সিটি নেওয়ার দরকার কী, যদি অর্ধেক ফাঁকাই থাকে! যে কোনো একটা ওয়ার্ডের কমিউনিটি হল নিলেই মিটে যায়। বিজেপির মহিলা (BJP Women Committee) সম্মেলন। মঞ্চে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা (Rekha Gupta), এরাজ্যের ওদের দলের সভাপতি ও বিরোধী দলনেতা। ফাঁকা চেয়ারের সংখ্যা বেশি।

বাংলার মহিলারা যে বিজেপির থেকে মুখ ফেরাবে, তা যে অবশ্যম্ভাবী, তা বোঝাতে কুণাল ঘোষ দাবি করেন, নারীশক্তিকে সামাজিক, রাজনৈতিক সব ধরনের অধিকার দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি যে মহিলা বিরোধী, মহিলাদের সামাজিক স্বীকৃতি দেয় না। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে নারী নির্যাতন, ধর্ষকদের সম্বর্ধনা। তাই বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই পাশে রয়েছে।

আরও পড়ুন : কংগ্রেসের সবটাই তৃণমূলে: সাম্প্রতিক নেতৃত্বের সমালোচনায় মণিশঙ্কর আইয়ার

ফাঁকা হলেই ফের একবার নিজের ফাঁকা প্রতিশ্রুতি আওড়ান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই কুণাল ঘোষ বিজেপির নেতাদের মনে করিয়ে দেন, আপনারা যদি বাংলার মাটির মানুষ হন, যতজন বিজেপির বাঙালি সাংসদ বিধায়ক রয়েছেন, কেন্দ্রকে বলুন বাংলার ১ লক্ষ ৯৬ হাজার বকেয়া টাকাটা অবিলম্বে দিতে। আবাসের টাকা দিতে। বাকি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিয়ে দিচ্ছেন। তিনিই শুরু করেছেন, বাড়াচ্ছেন, বাড়াবেন। আপনাদের বাড়ির লোকেদের বলবেন ফর্মটা ফিলাপ করে টাকাটা নিয়ে নিতে।

সায়েন্স সিটি নেওয়ার দরকার কী, যদি অর্ধেক ফাঁকাই থাকে! যে কোনো একটা ওয়ার্ডের কমিউনিটি হল নিলেই মিটে যায়। বিজেপির মহিলা সম্মেলন। মঞ্চে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, এরাজ্যের ওদের দলের সভাপতি ও বিরোধী দলনেতা। ফাঁকা চেয়ারের সংখ্যা বেশি। pic.twitter.com/g9nmTfX2P6
— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain) February 22, 2026
–

–

–


