মেয়ের বিয়ের মাত্র চার দিন আগে নিজের পিস্তল দিয়ে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন জলি গ্রুপের কর্ণধার তুষার ঘেলানি(Tushar Ghelani)। সুরাতে(Surat) এই ঘটনার জেরে রবিবার গ্রেফতার করা হয়েছে তুষার ঘেলানির(Tushar Ghelani) ‘বান্ধবী’ পুনম ভাদোরিয়াকে। জানা গিয়েছে, পুনমের সঙ্গে ১০ বছরের সম্পর্কে ছিলেন তুষার ঘেলানি। সুরাতের এই স্বনামধন্য ব্যবসায়ীর আত্মহত্যার ঘটনায় তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনার সূত্রপাত ২০১০ সালে।

পুনম ভাদোরিয়া জলি গ্রুপে সাধারণ কর্মী হিসেবে যোগ দিলেও মাঝে ছেড়ে দেন। ২০১৪-১৫ সাল নাগাদ তিনি তুষার ঘেলানির সাথে আবার যোগাযোগ করেন। প্রাথমিকভাবে পেশাদার সম্পর্ক থাকলেও সেটা সময়ের সাথে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতায় পরিণত হয়। পুনম নিজেও স্বীকার করেছেন যে তাঁদের দুজনের সম্মতিতেই তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তবে ঘেলানির পরিবার এই বিষয়ে কিছুই জানত না বলেই খবর।

তদন্তকারীরা জানিয়েছে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ব্যবসায় প্রভাব ফেলতে শুরু করে। ‘বাচপন’ ও ‘ব্লু প্যাপিলন’ নামের দুটি প্রি-প্রাইমারি স্কুলে পুনমকে ৫০ শতাংশের অংশীদার করা হয়। গত ৬-৭ বছরে লাভের অংশ হিসেবে প্রায় ১.৩৭ কোটি টাকা পুনমের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। ২০২৫ সালের অগাস্টে জলি আর্কেডের দুটি দোকান যার মূল্য প্রায় ১.০৬ কোটি টাকা পুনমের নামে লিখে দেওয়া হয়। যদিও অফিসের কর্মীরা জানিয়েছেন চাপের মুখে তুষার এমন কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন। তুষার ঘেলানির মেয়ে তনভি পুলিশকে জানান বিয়ের প্রস্তুতির মাঝে তাঁর বাবা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। মৃত্যুর কিছুদিন আগে তিনি মেয়েকে জানিয়েছিলেন পুনম নামে এক মহিলার জালে তিনি ফেঁসে গিয়েছেন। বিয়ের মাঝেই মহিলা কোনও বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারেন বলেও আশঙ্কা করেছিলেন তিনি।

৩১ জানুয়ারি গভীর রাতে তুষার ঘেলানি নিজের লাইসেন্সড রিভলবার দিয়ে গলায় গুলি করেন। হাসপাতালে চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি তাঁর মেয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয় এবং অবশেষে রবিবার পুনম ভাদোরিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় (আত্মহত্যায় প্ররোচনা) মামলা করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পত্তি হস্তান্তরের পিছনে কোনও ব্ল্যাকমেইল বা নেপথ্যে আরও কেউ ছিল কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

–

–

–

–

–



