Sunday, April 26, 2026

পর্যটনে এবার পরিবেশের ছোঁয়া, সরকারি গেস্ট হাউসে সবুজ বিদ্যুৎ 

Date:

Share post:

রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে এবার বড়সড় বদল আসতে চলেছে। পরিবেশ রক্ষায় দায়বদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আর্কষণ করতে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগম তাদের অধীনস্থ সমস্ত পর্যটন আবাসনে পুনর্নবীকরণযোগ্য বা গ্রিন এনার্জি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই লক্ষ্যে রাজ্যের অপ্রচলিত ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি দফতরের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে নিগম। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে যে ৪০টি পর্যটন আবাসন বা লজ সরকারিভাবে পরিচালিত হয়, সেগুলিতেই এই বিশেষ ব্যবস্থা চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

পর্যটন ও অপ্রচলিত শক্তি দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব বরুণ কুমার রায় জানিয়েছেন, নিগমের সম্পত্তিগুলিতে ইতিমধ্যেই সংস্কার ও পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। আধুনিকীকরণের অঙ্গ হিসেবেই প্রতিটি আবাসে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দেওয়া হচ্ছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রতিটি সরকারি পর্যটন আবাসের জন্য ‘গ্রিন সার্টিফিকেশন’ বা সবুজ শংসাপত্র পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে প্রশাসন। এতে কেবল বিদ্যুৎ খরচই কমবে না, বরং বিশ্বজুড়ে পরিবেশ সচেতন পর্যটকদের কাছে বাংলার পর্যটন কেন্দ্রগুলির গ্রহণযোগ্যতাও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

দফতর সূত্রের খবর, পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি পরিষেবার মানোন্নয়নেও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। কর্মীদের পেশাদারিত্ব ও যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্তরের বিভিন্ন হোটেল ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে নিগম। বিশেষ করে দুর্গাপুরের স্টেট ইনস্টিটিউট অব হোটেল ম্যানেজমেন্টের প্রশিক্ষকরা সরকারি লজের কর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।

প্রশাসনের এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছে বিদেশি পর্যটকদের বিশেষ পছন্দ। বিশেষ করে ইউরোপীয় পর্যটকরা এখন ভ্রমণের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব বা ‘ইকো-ফ্রেন্ডলি’ বাসস্থানকে অগ্রাধিকার দেন। কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রকের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গ বিদেশি পর্যটক আগমনের নিরিখে দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। রাজ্যে প্রায় ৩১ লক্ষ ২০ হাজার বিদেশি পর্যটক এসেছেন, যা মোট বিদেশি পর্যটকের প্রায় ১৫ শতাংশ। প্রথম স্থানে থাকা মহারাষ্ট্রের ঠিক পরেই এখন বাংলার অবস্থান। এই ধারা বজায় রাখতেই সবুজ স্বীকৃতির পথে হাঁটছে সরকার।

ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ট্যুর অপারেটরসের পশ্চিমবঙ্গ শাখার চেয়ারম্যান দেবজিৎ দত্ত এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তাঁর মতে, দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের জন্য রাজ্যের উচিত দায়িত্বশীল ও টেকসই পর্যটন নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট কৌশলগত নীতি প্রণয়ন করা। তাতে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি সংস্থাগুলির পক্ষেও কাজ করা সহজ হবে। প্রশাসনিক মহলের আশা, সরকারি লজগুলি এই পথ দেখালে আগামী দিনে রাজ্যের বেসরকারি হোটেলগুলিও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ব্যবহারে আগ্রহী হবে।

আরও পড়ুন – বিধানসভা থেকে হালিশহর মহাশ্মশান: শুভ্রাংশুকে আগলে মুকুলের শেষযাত্রায় অভিষেক

_

 

_

 

_

 

_

 

_

Related articles

রবিবার সকালে আকাশের মুখ ভার, দুপুরের পরেই ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস!

প্রবল গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি মিলবে কি, সকালে আকাশের চেহারা দেখে ঠিক এমন প্রশ্নই ঘোরাফেরা করছে দক্ষিণবঙ্গবাসীর মনে।...

পদযাত্রা থেকে জনসভা, আজ নিজের কেন্দ্রে ভোট প্রচারে মমতা 

বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফায় হাইভোল্টেজ ভবানীপুর (Bhawanipur) কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী স্বয়ং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বাংলার...

সোনা পাপ্পু মামলায় রবিবার সকালে শহরে ফের ইডি হানা

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফা শুরুর আগে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতি সক্রিয়তা। একদিকে যখন মহানগরীতে জোরকদমে চলছে প্রচার, ঠিক...

চারমিনার এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, প্রশ্নের মুখে যাত্রী নিরাপত্তা

ফের একবার প্রশ্নের মুখে যাত্রী সুরক্ষা! চারমিনার এক্সপ্রেসের (Charminar Express) এস-৫ কোচে হঠাৎ আগুন লেগে যাওয়ায় ঘটনায় তীব্র...