যে আন্দোলন ঘুরিয়ে দিয়েছিল তৎকালীন কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) রাজনৈতিক জীবনের চাকা, তার মূল সঙ্গী ফেলানি বসাক প্রয়াত। বার্ধক্যজনিত কারণে সোমবার ৮০ বছর বয়সে নদিয়ার (Nadia) ফুলিয়ার বাড়িতেই মৃত্যু হয় তাঁর।

ফেলানি বসাক (Felani Basak)। এই নাম বদলে দিয়েছিল একটা আন্দোলনের অভিমুখ। ১৯৯৩। ফেলানি বসাকে মূক ও বধির মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে প্রতিবেশী সিপিএম কর্মীর বিরুদ্ধে। তাঁর গ্রেফতারি ও শাস্তির দাবিতে আন্দোলনে নামেন তৎকালীন কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তখন পিভি নরসিংহ রাও সরকারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গে জ্যোতি বসুর সরকার। ন্যায় বিচারের দাবিতে ফেলানিকে সঙ্গে নিয়ে জ্যোতি বসুর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন মমতা। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দেয়নি। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের কাছেই বসে পড়েন মমতা-সহ বাকিরা। সেখান থেকে পুলিশ তাঁদের টেনে হিঁচড়ে বের করে দেয়।

এর কয়েকদিন পরেই ২১ জুলাই। রাইটার্স আন্দোলন। সচিত্র ভোটার কার্ড চালুর দাবির পাশাপাশি ফেলানির কন্যার ন্যায় বিচারের দাবিও ছিল সেই আন্দোলনে। রাজপথ উত্তপ্ত হয়েছিল। পুলিশের গুলিতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। সেই স্মৃতিতে এখনও শহিদ দিবস পালন করে তৃণমূল। পরবর্তীকালে সিঙ্গুর-সহ একাধিক গণআন্দোলনেও ফেলানি বসাককে দেখা গিয়েছে প্রথমসারিতে। কিন্তু ফেলানি তাঁর মেয়ের বিচার পাননি। অভিযুক্তের শাস্তি হয়নি। ২০০৯ সালে ফেলানির মেয়ের মৃত্যু হয় সাপের কামড়ে।

কোনওরকমে সুতো কেটে দিন গুজরান করতেন ফেলানি। তাঁর ছেলের বয়স প্রায় ষাট ছুঁইছুঁই। তিনিও অসুস্থ। পরিবার সূত্রে খবর, অসুস্থতার মধ্যেও ফেলানি চাইতেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে। তাঁর প্রয়াণের খবর পেয়ে দেখা করতে যান শান্তিপুরের তৃণমূল বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী। তৃণমূলের পক্ষ থেকে শেষকৃত্য ও ক্রিয়াকর্মের দায়িত্বও গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন- রাজ্যে ভোটের বাদ্যি! মার্চেই আসছে ৪৮০ কোম্পানি বাহিনী, এক দফাতেই কি নির্বাচন?

_

_

_

_

_
_


