বাংলায় SIR প্রক্রিয়া পরিচালনার উপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর কমিশনকে তীব্র নিশানা করল বাংলার শাসকদল তৃণমূল (TMC)। এসআইআর মামলার শুনানিতে এদিন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, বাংলা SIR-এর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে ভিন রাজ্য (ওড়িশা (Odisha) ও ঝাড়খণ্ড (Jharkhand)) থেকে বিচারক নিয়োগ করা যেতে পারে। তৃণমূলের দাবি, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার যে কথা বলেছেন, এদিন শীর্ষ আদালত তারই নির্দেশ দিয়েছে। বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে এক বন্ধনীতে রেখে তীব্র আক্রমণ করে তৃণমূল।

এসআইআর (SIR) নিয়ে মঙ্গলবার সকালে জরুরি ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) শুনানি হয়। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতির তরফে একটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট (Status report) আসার পরেই মামলা এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। হাই কোর্টের রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রায় ৮০ লক্ষ ভেরিফিকেশনের কাজ বাকি রয়েছে। প্রতি দিন ২৫০টি করে নিষ্পত্তি করলেও, প্রায় ৮০ দিন সময় লাগবে। সে ক্ষেত্রে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময় থেকে শুরু করে নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যন্ত ব্যাহত হতে পারে। এরপরই তড়িঘড়ি শুনানি করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত (CJI Surya Kant), বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী (Joymalya Bagchi) এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির (VM Pancholi) বেঞ্চ। এদিনের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হল, সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে ২৮ তারিখের মধ্যে ভোটার তালিকা প্রকাশ করতেই হবে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে ভিন রাজ্য থেকে বিচারক নিয়োগ করা যেতে পারে। তবে সে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবেই কলকাতা হাইকোর্টের উপর ছেড়েছেন প্রধান বিচারপতি।

এই রায়ের পর নির্বাচন কমিশনের বিরোধিতায় আরও প্রবলভাবে সরব হয়েছে বাংলার শাসকদল (TMC)। তাদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় কার্যত নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। তার জন্য জটিলতা আরও বেড়েছে। নিজেদের এক্স হ্যান্ডেলে তৃণমূল লেখে, “সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতা এবং ব্যর্থতার ফলে সৃষ্ট বিশাল বাধা মোকাবিলায় প্রতিবেশী রাজ্য থেকে বিচারকদের মোতায়েনের অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছে। এই হস্তক্ষেপ নিজেই অনেক কিছু বলে।“

পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক অনুমোদিত সমস্ত নথি, যার মধ্যে আধার এবং মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় দাবি এবং আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য গ্রহণ করতে হবে। তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার যেমন অনুরোধ করেছেন, সুপ্রিম কোর্ট এখন স্পষ্টভাবে সেই নির্দেশ দিচ্ছে।“

স্যোশাল মিডিয়া পোস্টে সরাসরি বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে এক বন্ধনীতে রেখে তৃণমূল লেখে, “আদালত ফের বলেছে যে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক অবহিত বা পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক অনুমোদিত সমস্ত নথি, যার মধ্যে আধার এবং মাধ্যমিক প্রবেশপত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, বিচারাধীন দাবি এবং আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য গ্রহণ করতে হবে। এই স্পষ্ট নির্দেশ বিজেপি-ইসিআই-এর লক্ষ্যবস্তু পরিবর্তন এবং ডকুমেন্টারি মান নিয়ন্ত্রণের যথেচ্ছ প্রচেষ্টাকে ভেঙে দেয়। বাংলায় ভোটারদের বেছে বেছে লক্ষ্যবস্তু করার, ভয় দেখানোর এবং হয়রানির ষড়যন্ত্র আবারও একটি দৃঢ় আদালত কর্তৃক বাধার সম্মুখীন হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলিকে আইনের সীমানার মধ্যে কাজ করতে হবে, দলীয় স্বার্থের নির্দেশে নয়।“

–

–

–

–

–


