Friday, June 26, 2026

নাম বদলেও বঞ্চিত বাংলা, আমরা আদায় করে ছাড়ব! কেরালার নাম বদলে গর্জে উঠলেন মমতা

Date:

Share post:

সব বিষয়েই বঞ্চিত বাংলা। সেই কারণে পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলের দীর্ঘদিনের আর্জিকে উপেক্ষা করে কেরালার নাম বদলে অনুমেোদন দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। মঙ্গলবার, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ঘোষণা করেন কেরালার নাম বদল করে কেরালম (Keralam) করার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তার পরেই নবান্ন থেকে ভিডিও বার্তায় গর্জে ওঠেন পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি বলেন, বাংলাকে ওরা দেখতে পারে না। বাংলার মনীষীদের অপমান করে। সেই কারণে তিনি বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও এখনও পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলের প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়নি মোদি সরকার। কেরালা নাম পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বলেন, কেরালায় বাম সরকার। বিজেপির (BJP) সঙ্গে এখন ওদের প্রকাশ্যেই বোঝাপড়া। সেই কারণেই কেরালা (Kerala) নাম পরিবর্তন হয়েছে।

সামনেই কেরালায় বিধানসভা নির্বাচন (Assembly Election)। তার আগে রাজ্যের নাম বদলে অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা (Cabinet)। ২০২৪ সালের ২৪ জুন কেরালা বিধানসভায় নাম বদলের প্রস্তাব পাশ হয়। এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে সেই পরিবর্তনে সিলমোহর মিলল। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু নাম বদল সংক্রান্ত বিল মতামত নেওয়ার জন্য কেরালা বিধানসভায় পাঠাবেন৷ তারা মতামত জানিয়ে দিলেই রাষ্ট্রপতির সুপারিশ অনুযায়ী বিল সংসদে পেশ করার উদ্যোগ নেবে কেন্দ্র৷

কেরালার নাম বদলে ‘কেরালম’ করার প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সায় মিলতেই রাজ্যের নাম বদল নিয়ে  নতুন করে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন, নবান্নে তাঁর অভিযোগ,  “ওরা বাংলা বিরোধী বলেই আমাদের সঙ্গে বঞ্চনা করছে।” পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলে ‘বাংলা’ করার প্রস্তাব ২০১৮ সাল থেকে ঝুলে রয়েছে। অথচ কেরালার ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “আমি অবাক হয়ে গিয়েছি। আমরা দুবার প্রস্তাব পাশ করেছিলাম। আমি নিজে দিল্লি গিয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছি। ওরা বাংলা বিরোধী, বাংলার মনীষীদের বিরোধিতা করে বলেই নাম বদলে স্বীকৃতি দিল না।” পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলা’ করার প্রস্তাব বিধানসভায় পাশ হয় ২০১৮ সালে। সেই প্রস্তাব কেন্দ্রের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, দীর্ঘ দিন ধরে বাংলার প্রস্তাব পড়ে থাকলেও কেন্দ্র তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি। তিনি বলেন, “আমাদের সব বিষয়ে অপেক্ষা করতে হয়। আমাদের রাজ্যের ছেলে-মেয়েরা পরীক্ষায় গেলে নামের ক্রম অনুযায়ী পিছনে বসতে হয়। আমাকেও অনেক জায়গায় সবার শেষে সুযোগ দেওয়া হয়।” তাঁর বক্তব্য, নাম পরিবর্তনের বিষয়টি শুধু আবেগ নয়, প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রেও তা প্রভাব পড়ে।

এর নেপথ্যে রাজনৈতিক সমীকরণের কথা বলেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওরা পেয়ে গেল তার কারণ আজ কেরলে বিজেপির সঙ্গে সিপিএমের একটা জোট গড়ে উঠছে। অলিখিত জোট নয়, এখন লিখিত জোটই হয়ে গেল। আজকের ঘটনার মধ্যেই তার প্রমাণ মিলছে। তাহলে বাংলা বার বার বঞ্চিত হবে কেন?”

এর পরেই প্রত্যয়ী মমতা বলেন, “এক দিন আপনারা চলে যাবেন। বাংলার নামটা আমরা আদায় করে নিয়ে আসব।”

তবে, রাজনৈতিক সৌজন্যতায় কেরালাবাসীকে অভিনন্দন জানাতে ভোলেননি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “কেরলের মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবি পূরণ হয়েছে, তাদের অভিনন্দন জানাই।”

কিছু দিনের মধ্যেই কেরালায় বিধানসভা ভোট। তার আগে রাজ্যের নাম বদলের এই প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ৷ আর একে কেন্দ্র করে রাজ্যের নাম পরিবর্তনের প্রশ্নে ফের একবার কেন্দ্র-রাজ্য টানাপড়েন সামনে এল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Related articles

নবান্নে কাকলি-শতাব্দী-সুদীপ: শুভেন্দু-সাক্ষাতে কী কথা!

তৃণমূলে বিক্ষোভ দেখিয়ে কমপক্ষে ১৯জন সাংসদ নিয়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন বর্ষীয়ান সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার (Kakoli Ghoshdastidar। জানিয়েছেন তাঁরা...

নেই হাজিরা, মামলা নিষ্পত্তিতে অনীহা, নতুন সরকারের আইনজীবী প্যানেল নিয়ে ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এবার নতুন সরকারের সরকারি আইনজীবী প্যানেল নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতে...

ধান্দাবাজরা চলে গিয়েছে! আসল সম্পদ কর্মীরাই, তৃণমূলই থাকবে: বার্তা নেত্রীর

যারা চলে গিয়েছে যেতে দিন। নিজেকে আর পরিবার বাঁচাতে ধান্দাবাজরা বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। কিন্তু যাদের ঘাম-রক্ত-পরিশ্রম-আত্মত্যাগের বিনিময়ে...

দিদির সঙ্গেই আছি, থাকব! দুর্যোগ উড়িয়ে শপথ জেলা তৃণমূলের কর্মিসভায় 

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বজ্রবিদ্যুৎ সহ প্রবল দুর্যোগ শহরজুড়ে। জল থইথই অবস্থা সর্বত্র। এই দুর্যোগের মধ্যেও ভিড়ে উপচে পড়ল...