নিজেদের পোস্ট নিয়ে কটাক্ষর পরে এবার স্যোশাল মিডিয়ায় নিকটজনের ছবি পোস্ট করেও ট্রোলের শিকার হচ্ছেন সেলেবরা। এর জেরে বৃহস্পতিবার, স্যোশাল মিডিয়া (Social Media) ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন গায়িকা ইমন চক্রবর্তী (Iman Chakraborty)। এবার চূড়ান্ত ক্ষোভ আর বিরক্তি প্রকাশ করলেন সাহিত্যিক সম্রাজ্ঞী বন্দ্যোপাধ্যায় (Samragnee Bandyopadhyay)। স্বামী অরূপ চক্রবর্তী ও কন্যা অরণ্যানীর সঙ্গে ছবি পোস্ট করেন সম্রাজ্ঞী। আর সেখানেই করা হয় তাঁর শিশুকন্যাকে উদ্দেশ্য করে। এর পাল্টা ট্রোল (Troll) করা নেট-নাগরিকদের ধুয়ে দেন তিনি। নিজের পোস্ট শিষ্টাচার আর শালীনতার পাঠও পড়ান লেখিকা। একই সঙ্গে নিজের কন্যা অরণ্যানীকে উদ্দেশ্য করে একটি কবিতা লেখেন অরূপ-ঘরনী।

দুদিন আগেই নিজের ফেসবুক পেজে (Fack Book Page) স্বামী-কন্যা-সহ ছবি পোস্ট করেন সম্রাজ্ঞী বন্দ্যোপাধ্যায়। শিশুকন্যার সঙ্গে আদুরে মুহূর্ত ভাগ করে নেন লেখিকা। সম্রাজ্ঞীর স্বামী অরূপ তৃণমূলের (TMC) কাউন্সিলর তথা মুখপাত্র। সেই কারণে শিশুকন্যাকে উদ্দেশ্যে কটূক্তি করা হয়। লেখা হয়, “বাবার মতো হয়ো না”। আর তার পরেই ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ উগরে দেন সম্রাজ্ঞী। ট্রোল করা যে অশিক্ষার নামান্তর, পোস্টে সেটা স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন তিনি।

এই পোস্ট একই সঙ্গে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পাঠ পড়ান সম্রাজ্ঞী। তীব্র কটাক্ষ করে তিনি লেখেন, “ডেটা প্যাকের ভরসায়, এসি ড্রয়িং রুমে সোশ্যাল মিডয়া কমেন্টে রাজনীতিটা করে না।“ লেখিকার কথায়,
“আপনার রাজনৈতিক মতবাদের উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে থাকলে , কিংবা তার নানা কিছু খারাপ লাগলেও তার সন্তানের ছবির নিচে উল্টোপাল্টা কমেন্ট করার যে মহান শিক্ষা আপনাদের , “বাবার মতো হয়ো না” এই কথা বলার যে ঔদ্ধত্য তাতে বিস্মিত ও আহত হতে হতেও মনে রাখতে ভুলিনি, বিগত কদিন সমস্ত দলের মানুষ কিন্তু দেখা হলে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ঘোষিত শিক্ষিত বামেদের কিংবা রামেদের এই অসৌজন্য দেখিনি কোনওদিন। কারণ তারা মাঠে নেমে রাজনীতিটা করে। ডেটা প্যাকের ভরসায়, এসি ড্রয়িং রুমে সোশ্যাল মিডয়া কমেন্টে রাজনীতিটা করে না। কট্টর বাম বন্ধু কখনও বলেছে “কী রে অরূপ দা ভালো তো? দেখা হলে ঝগড়া আছে”। বলেছি “তোরা করে নিস”। যাদবপুরের কাফি দা রাজু দাদের সঙ্গে কথা বলবার আগে আমাকে কোনওদিন ভাবতে হয়নি। আমাদের পাড়ায় এর আগের টার্মে একজন কাউন্সিলর ছিলেন আর এস পির। দেখা হলেই বলতেন “অরূপ নেই তো? সিগারেটটা খেয়ে নিই তাহলে”। দুজনকেই দেখেছি দুজনের বিরোধীতা করতে। কিন্তু এই অশিক্ষার সংস্কৃতি দেখিনি। আজও যারা সি পি এম করে , কম বয়সী নেতৃত্ব স্থানীয়, তাদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকিদের কখনও সৌজন্য হারাতে দেখিনি।“

এই ট্রোল করার অসুখ সারার নয় বলে মন্তব্য করে সম্রাজ্ঞী তাঁর কন্যাকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, “এই অসুখ যাদের হয়েছে আমার কোনও আশা নেই তাই ধরে নিয়েছি সারবে না। আমি চেষ্টা করব তাদের থেকে মেয়েকে দূরে রাখতে কিন্তু জানি পারব না। কেবল মেয়েকে সবসময় বলব “তুমি একদম বাবার মতো হয়ো, নিজের যাই মনে হোক। যাই করো না কেন, অন্যকে অসম্মান কোরো না। সাহায্য করতে গেলে দল দেখো না। কোনও বয়স্ক মানুষ কিংবা শিশুকে আহত কোরো না। মতান্তরকে অসৌজন্যের পর্যায় নিয়ে ফেলো না।”

শেষে কন্যাকে উদ্দেশ্য করে একটি কবিতা লেখেন সাহিত্যিক সম্রাজ্ঞী (Samragnee Bandyopadhyay)।
“অরণ্যানী,
এই পৃথিবী বনের চেয়েও বড়
নোংরা কাদা হাল হকিকত
দেখে বিচার করো
অরণ্যানী,
রাস্তা জুড়ে
নেকড়ে বাঘ আর হায়না
অরণ্যানী,
রাত্রিগুলো
ঠিক পেরোতে চায়না
অরণ্যানী ,
মায়ের মতো
দৃঢ় হওয়ার আগে
বাবার মতো যেন তোমার
মস্ত হৃদয় জাগে
আমার মেয়ে ঠিক তার বাবার মতো হোক।
( বাবার মতো হওয়া মানে কোনও রাজনৈতিক দল করা নয়, বাবার মতো হওয়ার মানে বুঝতে গেলে আরেকটু শিক্ষিত আর জীবিত থাকতে হয়। )“

মায়ের মৃত্যুদিনে সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন ইমন চক্রবর্তী। লাইভে এসে ইমন অভিযোগ করেন, তাঁর মায়ের মৃত্যুদিন মাকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করা হয়েছে। মৃত্যুদিনে কুরুচিকর আক্রমণের শিকার হয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন গায়িকা। স্যোশাল মিডিয়ায় বডি শেমিং-এর শিকার হয়ে কলকাতা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ও। এবার ট্রোল করা নেট নাগরিকদের ধুয়ে দিলেন অরূপ-জায়া সম্রাজ্ঞী।

–

–

–

–


