দেশের পিছিয়ে পড়া মানুষকে সম্মানের সঙ্গে অধিকার দেওয়ার পথ তৈরি করে দিয়েছিলেন বাবা সাহেব আম্বেদকর। যে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের কারণে সমাজে জাতিভেদ, বর্ণভেদ, অস্পৃশ্যতায় আবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতার পরেও কার্যত পরাধীন থাকতে হয়েছে একাধিক বর্ণের মানুষকে, সেই ব্রাহ্মণ্যবাদকেই (Brahminism) বিয়েতে প্রত্যাখ্য়ান বিহারের দুই সিভিল সার্ভিস আধিকারিকের (Civil Service Officers)। যে সংবিধান (Constitution of India) তাঁদের সমাজে স্বীকৃতি দিয়েছে, সেই সংবিধানের শপথ বাক্যই তাঁরা পাঠ করলেন বিয়ের মন্ত্র হিসাবে।

বিহারের (Bihar) রাজধানী পাটনা এক অনন্য় বিয়ের সাক্ষী হয়েছে দিন দুয়েক আগে। মহকুমা কল্যাণ আধিকারিক অনন্ত কুমার যাদব ও ব্লকের পঞ্চায়েত রাজ আধিকারিক শিখা রঞ্জন নিজেদের বিয়েতে কোনও পুরোহিতকে (priest) আমন্ত্রণ জানাননি। তাঁদের বিয়েতে মন্ত্রপাঠ হয়নি। দুজনেই সংবিধানের (Constitution of India) প্রস্তাবনা পাঠ করে বিয়ের (marriage) শপথ নিয়েছেন। তাঁদের কাছে সেটাই বিয়ের মূল মন্ত্র (marriage ritual)।

বিহারের সিভিল সার্ভিসে একই সঙ্গে আধিকারিকের চাকরি পেয়েছেন অনন্ত ও শিখা। অনন্ত আইআইটি থেকে পাশ। বিহার সিভিল সার্ভিসের প্রশিক্ষণের সময়ই আলাপ হয় দুজনের। এরপরই ক্রমশ বিয়ের দিয়ে এগিয়ে যায় তাঁদের সম্পর্ক। দুজনেই ওবিসি (OBC) যাদব সম্প্রদায়ভুক্ত হওয়ায় বিয়ের ক্ষেত্রে ব্রাহ্মণের মন্ত্রোচ্চারণ বাদের সিদ্ধান্ত দুজনে মিলেই নিয়েছেন।

তবে তাঁদের এই শিক্ষার ভিত যে আরও গভীরে, তা অনন্তর মায়ের কথা শুনলেই বোঝা যায়। গীতা যাদব জানাচ্ছেন, ব্রাহ্মণ্য (Brahmin) ধর্মের পূজার্চনা তিনি দীর্ঘদিন নিজের পরিবার থেকে বিদায় করে দিয়েছেন। তাঁর বাড়িতে কোনও হিন্দু ধর্মের ঈশ্বরের মূর্তি নেই। একমাত্র রয়েছে একটি ভগবান বুদ্ধের ছবি। সেখানেই তাঁরা প্রণাম জানান। নতুন বউ বিয়ে করে ঘরে ঢুকবেও সেই বুদ্ধের ছবিতে প্রণাম করেই। এভাবেই ওবিসি সম্প্রদায়ের মানুষ সঠিক পথে আসতে পারবেন।

আরও পড়ুন : হার্ভার্ড থেকে স্নাতক, অক্সফোর্ডের স্কলার- সমপ্রেমে সোচ্চার রাজ্যসভার তৃণমূল প্রার্থী মেনকা

নব বিবাহিতা শিখাও এই পথে বিয়ে করেই খুশি। তিনি জানাচ্ছেন, ব্রাহ্মণ (Brahmin) পুরোহিতরা যে মন্ত্র পড়ে পুজো করেন, তা তাঁদের নিজেদের তৈরি। নিজেদের জন্য। সেখানে আমাদের কিছু নেই। কিন্তু আজ যখন সংবিধানের মন্ত্র উচ্চারণ করে বিয়ে সারলাম, তখন মনে হচ্ছে – হ্যাঁ এই মন্ত্রই তো আমাদের জীবনের সত্য়ি। এই মন্ত্রই আমাদের সব অধিকার দিচ্ছে।

–

–

–

–


