আবু ধাবি থেকে দুবাই। একের পর এক মার্কিন সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের উপরও হামলা চালাতে দ্বিধা করছে না ইরান। ইজরায়েল-আমেরিকা রাতভর ইরানের উপর হামলা চালানোর জবাবে মঙ্গলবারও সকাল থেকে একাধিক দেশে ইরানি হামলা অব্যাহত। এই পরিস্থিতিতে যখন লম্বা সময় ধরে যুদ্ধ চলার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তখন যুদ্ধের দায় ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ইজরায়েলের ঘাড়েই চাপানোর কাজ শুরু করল।

হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ পরিবহন বন্ধ করার শুধুই হুঁশিয়ারি দেয়নি ইরান (Iran)। তারা সেই কাজ করেও দেখিয়েছে একের পর এক জাহাজে মিসাইল হামলা চালিয়ে। এই পরিস্থিতিতে যখন বিশ্বের প্রায় সব দেশের নাবিকেরা হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চালাতে অস্বীকার করেছে, তখন বিশ্বের একাধিক দেশ তেল পরিবহন না করতে পারার দায় চাপিয়েছে আমেরিকার উপর।

হেজবোল্লা ঘাঁটি ধ্বংস করতে লেবাননে একের পর এক হামলা চালাতে শুরু করে ইজরায়েল। এরপরই পাল্টা তেল আভিভে মুহুর্মুহু মিসাইল হানা ইরানের। সেইসঙ্গে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধে (Riyadh) মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালায় ইরানের মিসাইল। একাধিক দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো ইরানের মিসাইল ধ্বংস করতে করতে আমেরিকার আয়রন ডোম সিস্টেম কার্যত শূণ্য হওয়ার পথে। অথচ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে নিজেদের সামরিক ঘাঁটিতে অস্ত্রের সরবরাহ করতে বিপদে পড়ছে। কুয়েতে (Kuwait) মার্কিন সেনাঘাঁটিতে হামলায় অন্তত ৬ মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ যে কয়েক ঘন্টা বা কয়েক দিনে শেষ হওয়ার নয়, তা বুঝে নিয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি জানান ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অন্তত কয়েক সপ্তাহ চলার সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবারই পশ্চিম এশিয়ার সমস্ত দেশ থেকে সব মার্কিন নাগরিকদের দেশে ফিরে আসতে নির্দেশ দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আরও পড়ুন : হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ গেলেই হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের!

যুদ্ধের পরিস্থিতি লম্বা হবে বুঝতে পেরে এবার ইজরায়েলের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের উপর হামলা চালানো আমাদের শেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ ছিল ওই এলাকার সন্ত্রাসবাদকে শেষ করতে। অন্যদিকে ট্রাম্পের স্টেট সেক্রেটারি মার্কো রুবিও (Marco Rubio) দাবি করেন, আমেরিকা প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসাবেই ইরানের (Iran) ওপর হামলা চালিয়েছে। যখন জানতে পারা গিয়েছে ইজরাইল ইরানের উপর হামলা চালাচ্ছে তখনই আমেরিকা হামলার পথে গিয়েছে।

কার্যত স্পষ্ট, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ থেকে হাত ধুয়ে ফেলতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন। যেখানে বিশ্বের একাধিক দেশ পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করার দাবী জানাচ্ছে, সেখানে ইজরাইল এখনও নাছোড়বান্দা হেজবুল্লা নিকেশ করার নামে ইরান আর লেবাননের ওপর হামলা অব্যাহত রাখতে।

–
–
–

