সরকার গঠনের তিনমাস যেতে না যেতেই ফের বিহারে মুখ্যমন্ত্রী বদলের ইঙ্গিত। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে (Nitish Kumar) রাজ্যসভা প্রার্থী করছে BJP। রাজনৈতিক মহলের মতে, নীতিশকে রাজনৈতিক বাণপ্রস্থে পাঠাচ্ছে পদ্ম শিবির। বুধবার, দলের তরফে যে তালিকা প্রকাশ হয়েছে সেখানেই নীতীশের নাম রয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে খবর। এই পরিস্থিতিতে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বিজেপিরই কোনও নেতাকে বসানো হবে বলে জানা গিয়েছে। সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর (Samrat Chowdhry)। সেক্ষেত্রে নীতীশ-পুত্র নিশান্তকে ডেপুটি সিএম করা হতে পারে। বিজেপি দখলদারী রাজনীতির কারণে শরিকদলের নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী থেকে সরানোর ছক কষে। বিহারের ঘটনা নিয়ে মন্তব্য তৃণমূলের (TMC) রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh)।

একাধিকবার শিবির বদল করায় জনতা দল ইউনাইটেডের (JDU) প্রধান নীতীশ ‘দলবদলু’ আখ্যা পেয়েছেন রাজনৈতিক মহলে। কখনও NDA তো কখনও মহাগঠবন্ধন- নিজের কুর্সি ধরে রাখতে অনবরত শিবির বদলেছেন নীতীশ (Nitish Kumar)। এক শিবির থেকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই শিবির বদলে সরকার ফেলেছেন। তবে সুদীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ারের বেশিরভাগ সময় বিহারকে আবর্ত করেই ঘুরেছেন তিনি। এবার সেই নীতীশকেই বিহার ছাড়া করে রাজনৈতিক বাণপ্রস্থের ব্যবস্থা করছে গেরুয়া শিবির। যদিও দিল্লির রাজনীতি নীতীশের কাছে নতুন নয়। একসময় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন তিনি। কেন্দ্রে মন্ত্রীও ছিলেন। তবে এবার ভোটের আগের থেকেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকার কথা বলেছিলেন বারবার। তবুও ভোটে তিনি নির্বাচনের লড়েছেন এবং মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। এবার, ‘পাল্টুরাম’ নীতীশ বদলানোর আগেই বিজেপিই তাঁকে বদলে দিচ্ছে।

সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই নীতীশ কুমারের (Nitish Kumar) মনোনয়ন সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রস্তুত করেছে তাঁর দল JDU। সম্ভবত ৫ মার্চ মনোনয়ন জমা দেবেন নীতীশ। ২০২৫ সালের নভেম্বরে এনডিএ-র বিপুল জয়ের পর দশমবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন নীতীশ কুমার। রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার পরে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হবে।

সেক্ষেত্রে বিজেপি তাদের দলের নেতাকেই মুখ্যমন্ত্রী পদে বসাতে চাইবে। আর তার বড় দাবিদার বর্তমানে বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। সেক্ষেত্রে নীতীশ-পুত্রকে উপমুখ্যমন্ত্রী করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি পুত্র নিশান্তকে সক্রিয় রাজনীতিতে এনেছেন নীতীশ। তাহলে কি বাণপ্রস্থের ইঙ্গিত আগেই পেয়েছিলেন তিনি? কারণ যাই হোক, বিহারের রাজনীতিতে ফেরে টানাপোড়েন হবে।

নীতীশকে রাজ্যসভায় পাঠানোর বিষয় নিয়ে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, এই বিষয়ে বিস্তারিত দলের দিল্লির নেতৃত্ব বলবেন। তবে কুণালের কথায়, সব সময় দখলদারির রাজনীতি করে বিজেপি। সেই কারণেই কখনও শরিকদলের মুখ্যমন্ত্রীকে বদলে দেয়, কখনও আবার গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে মেয়াদ ফুরানোর আগেই বদলে দেওয়া হয় নিজের দলের মুখ্যমন্ত্রীকেই। এক্ষেত্রে ত্রিপুরার উদাহরণ দেন কুণাল।

–

–

–

–

–



