মতুয়া সংঘের বড়মা বীণাপাণি দেবীর (Binapani Devi) প্রয়াণ দিবস। শ্রদ্ধা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মতুয়া সমাজের সার্বিক কল্যাণের রাজ্য সরকার (Govt of West Bengal) এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী কী করেছিলেন এখনও কী কী করছেন সমস্ত তথ্য তুলে ধরলেন।

এক্স হ্যান্ডেলে মতুয়া (Matua) মহাসংঘের বড়মা বীণাপানি দেবীর তিরোধান দিবসে শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ও শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের প্রদর্শিত পথে মতুয়া মহাসংঘ বাংলার সামাজিক সংস্কার ও নবজাগরণের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। দলিত ও অবহেলিত মানুষের অধিকার রক্ষা, শিক্ষার প্রসার এবং জাতপাতহীন এক মানবিক সমাজ গড়ার যে আন্দোলন এই মহাসংঘ শুরু করেছিল, বড়মা সারাজীবন সেই আদর্শকেই লালন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে মতুয়া মহাসংঘ সামাজিক সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের এক স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বড়মার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল ব্যক্তিগত, আত্মিক। তাঁর মাতৃস্নেহের পরশ আমি নিবিড়ভাবে পেয়েছিলাম – এ আমার জীবনের পরম পাওয়া। তাঁর চিকিৎসাসহ যেকোনো দরকারে তিনি যখনই আমাকে ডেকেছেন, আমি ছুটে গেছি তাঁর কাছে। এটা আমার গর্ব, আমাদের সরকার তাঁর অসামান্য সামাজিক অবদানের জন্য বড়মা’কে রাজ্যের সর্বোচ্চ সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’-এ ভূষিত করেছিল।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও সংযোজন,”শুধু তাই নয়, মতুয়া সমাজের সার্বিক কল্যাণের জন্যও আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। মতুয়া বিকাশ পর্ষদ ও নমঃশূদ্র বিকাশ পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। পূর্ণব্রহ্ম শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরকে সম্মান জানিয়ে তাঁর জন্মদিনে সরকারী ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ঠাকুরনগরে, ঠাকুরবাড়ির কাছাকাছি হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে। কৃষ্ণনগরে গড়ে তোলা হচ্ছে হরিচাঁদ গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সটেনশন ক্যাম্পাস। গাইঘাটায় পি আর ঠাকুর সরকারি কলেজ করা হয়েছে।পানীয় জলের জন্য হাবড়া-গাইঘাটা – ‘জলতৃপ্তি’ জল প্রকল্প করা হয়েছে। ইছামতী নদীর ওপর মুড়িঘাটা ব্রিজ ও বলদেঘাটা খালের ওপর কুঠিপাড়া নাগবাড়ী ব্রিজ তৈরী করা হয়েছে। গাইঘাটায় নতুন ITI ও Polytechnic কলেজ করা হয়েছে। গাইঘাটায় হয়েছে কিষাণ মান্ডি। ঠাকুরনগরের বিখ্যাত ফুলবাজার ও ফুল-চাষীদের কথা মাথায় রেখে ওখানে ফুলমান্ডি করা হচ্ছে। ঠাকুরনগরকে ঢেলে সাজানো হয়েছে।”

এরপরেই এসআইআর নিয়ে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আরও একবার ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন,”কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের চক্রান্তে আজ এক অস্থির ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে মতুয়া ভাই-বোনদের ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নাগরিকত্ব দেবার নামে রাজনীতির খেলা চলছে। তাঁদের পরিচয় নিয়েই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। SIR করে ইচ্ছে করে ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। যাঁরা পুরুষানুক্রমে এদেশের নাগরিক, যাঁদের ভোটে সরকার নির্বাচিত হয়, আজ তাঁদের নতুন করে ‘নাগরিকত্ব’ দেওয়ার নামে অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করানো হচ্ছে। এই অন্যায় আমরা মেনে নেবো না। আমার মতুয়া ভাইবোন সহ বাংলার মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার যে চেষ্টা চলছে, তার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে। বাংলার মানুষের গায়ে কোনো আঁচ পড়তে আমরা দেব না। এই বিশেষ দিনে এ আমার অঙ্গীকার।”

সমগ্র মতুয়া সমাজের ও মতুয়া মহাসংঘের বড়মা বীণাপানি দেবীর তিরোধান দিবসে তাঁকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও প্রণাম।
শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ও শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের প্রদর্শিত পথে মতুয়া মহাসংঘ বাংলার সামাজিক সংস্কার ও নবজাগরণের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। দলিত ও অবহেলিত মানুষের অধিকার…
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) March 5, 2026
বিশ্বের পিছিয়ে পড়া সমাজের মানুষ ও মতুয়া মহাসংঘের বড়মা বীণাপাণি দেবীর প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।


–

–

–

–

–
–


