নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনে জয়ের যে পথ বিজেপি নিয়েছে বাংলায়, তা কোনভাবেই সফল হবে না স্পষ্ট করে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সেই নির্বাচন কমিশনকেই চ্যালেঞ্জ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশ ভেঙে গণনায় কর্মী নিয়োগের অভিযোগ তুললেন। সেই সঙ্গে গণনাকেন্দ্র থেকে তৃণমূলের এজেন্টদের (TMC agent) মেরে বের করে দেওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ (CCTV footage) প্রকাশের চ্যালেঞ্জ করলেন তিনি। সেই সঙ্গে অভিষেকের দাবি, ইভিএম (EVM) বদলে গোটা নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে নির্বাচন কমিশন (ECI)।

বাংলার নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শুরু হওয়ার আগে সুপ্রিম কোর্টে চলা মামলায় তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখ করেন, কিভাবে কমিশন নিজের নিয়ম ভেঙে শুধুমাত্র কেন্দ্র সরকারি কর্মী দিয়ে নির্বাচন গণনা পরিচালনার পরিকল্পনা করেছে। সেখানে সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল রাজ্য ও কেন্দ্রের কর্মী মিলিয়ে গণনার কাজ করতে হবে। সোমবার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর গণনায় সুপ্রিম কোর্টের সেই নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ তুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবারের গণনার দিনের উদাহরণ তুলে ধরে অভিষেক দাবি করেন, গণনাকেন্দ্রে কোনও রাজ্যের কর্মী ছিল না। আপনি যাকে গণনায় বসিয়েছেন তিনি কেন্দ্রের লোক। মাইক্রো অবজারভার (micro observer) কেন্দ্রের কর্মী। রিটার্নিং অফিসারও (RO) নির্বাচন কমিশন বসিয়েছে। রাজ্যের কর্মীদের সরিয়ে দিয়ে নিজের খাস লোকেদের বসিয়েছে। যারা নিরাপত্তা দিচ্ছে তারা কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force)। সেখানে রাজ্যের কোনও প্রতিনিধি নেই। পূর্ব মেদিনীপুরে সব গণনা কেন্দ্রে এভাবে গণনা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের যে নির্দেশ ছিল যেখানে রাজ্য ও কেন্দ্রের উভয় কর্মী থাকার কথা ছিল। এরকম বহু গণনা কেন্দ্র (counting centre) ছিল।

গণনা কেন্দ্রে যে ইভিএম খোলা হয়েছিল আদতে সেই মেশিনও নির্বাচন কমিশনের কারচুপিতে বদলে ফেলার অভিযোগ তোলেন অভিষেক। তাঁর দাবি, সকাল থেকে অন্তত ১০০ জন এমন প্রার্থীর সঙ্গে কথা হয়েছে যাঁরা বলছেন যে ইভিএমএ ভোট হয়েছে তা হয়তো কারচুপি করা হয়নি। কিন্তু সেটা বদলে ফেলা হয়েছে। অনেক জায়গা থেকে এই অভিযোগ আসার পর গণনার দিন রিটার্নিং অফিসারদের তা জমাও দেওয়া হয়েছিল। গণনা কেন্দ্রে (counting centre) যখন ইভিএম (EVM) খোলা হচ্ছে তখন ফর্ম ১৭-সি-র সঙ্গে সেই ইভিএম মেশিনের নম্বর মিলছিলই না। এরকম দশটি ইভিএম কল্যাণী থেকে মেমারি থেকে এসেছে। তার চিঠিও জমা পড়েছে। এরকম অন্তত ১০০টি গণনা কেন্দ্র রয়েছে। আদালতে গিয়ে এগুলি সব চ্যালেঞ্জ করা হতে পারে।

আরও পড়ুন : রাহুল-সোনিয়ার ফোন, আসছেন অখিলেশ: বিরোধী জোট শক্তিশালী করার বার্তা তৃণমূল সুপ্রিমোর

সেই সঙ্গে গণনার দিন গণনা কেন্দ্রগুলিতে যে হিংসার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে, তার বিরুদ্ধে সরব অভিষেক। সেই হিংসার ঘটনাতেই কমিশনকে চ্যালেঞ্জ অভিষেকের, নির্বাচন কমিশন তো প্রতিটি ঘটনার তথ্য সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে (Whatsapp group) তুলে ধরে। তাহলে গণনার দিনের অন্তত ১০০টি কেন্দ্রের ১২টা থেকে ৬টা পর্যন্ত শেষ ছয় ঘন্টার সিসিটিভি ফুটেজ (CCTV footage) প্রকাশ করুন। এটা আমার চ্যালেঞ্জ থাকল। গণনা কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে তারা দেখিয়ে দিক কোনও মারধর অশান্তি হয়নি। আমি জনাদেশ মেনে নেব।

–

–
–
–
