২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপির পতন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। রাজপথে যে জনসমর্থন দেখা যাচ্ছে, তাতে তৃণমূল ২৫০-র বেশি আসন জিতে ফের নবান্ন দখল করবে। শনিবার ধর্মতলায় দলের ধরনামঞ্চ থেকে এই আত্মবিশ্বাসী সুর শোনা গেল যুব তৃণমূল নেতা সুদীপ রাহার গলায়। এদিন তিনি সাফ জানান, কেন্দ্রীয় শক্তি বা এজেন্সি দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকে রাখা যাবে না।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে এদিন বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন সুদীপ। তাঁর দাবি, বিশেষ আধিকারিকদের ‘গুপ্তচর’ হিসেবে ব্যবহার করে বাঙালির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। বাম আমলে সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণে যুক্ত থাকা আধিকারিকরাই এখন বিজেপির হয়ে কাজ করছেন বলে তোপ দাগেন তিনি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিজেপিকে বিঁধে সুদীপ প্রশ্ন তোলেন, তালিকায় নাম না থাকা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পরিবারের সদস্য কিংবা নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন এবং কবি জয় গোস্বামীরাও কি তবে বিজেপির চোখে ‘রোহিঙ্গা’?

এদিন সুদীপ রাহা অভিযোগ করেন, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার নামে নথির গেরোয় সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করা হচ্ছে। এমনকি এই প্রক্রিয়ার চলাকালীন যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের পরিবারকে নিয়ে কমিশন বা বিজেপি নেতৃত্ব কোনও সমবেদনা জানায়নি বলেও সরব হন তিনি। তাঁর কথায়, “বিজেপি যখন সিবিআই, ইডি কিংবা সিআরপিএফ-কে হাতিয়ার করছে, তৃণমূল তখন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।” কেন্দ্রীয় সরকার আবাসের টাকা বা ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে রাখলেও রাজ্য সরকার যে যুবশ্রী প্রকল্পের টাকা প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে পাঠাতে শুরু করেছে, সে কথা মনে করিয়ে দেন তিনি।

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নাম না করে ‘ইঁদুর’ বলে কটাক্ষ করেন এই যুব নেতা। তাঁর চ্যালেঞ্জ, আগামী নির্বাচনে বিরোধী দলনেতা বদল করাটাই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য হবে। বঙ্কিমচন্দ্র বা রবীন্দ্রনাথের বাংলার মানুষকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলা যে চরম অপমানজনক, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে সুদীপ বলেন, বাংলার মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে জানে। বক্তব্যের শেষে কর্মীদের চাঙ্গা করতে সুদীপ রাহা স্লোগান তোলেন, “মায়েদের উলুধ্বনি, ভাইদের করতালি, বাংলা থেকে বিজেপি খালি।” তাঁর দাবি, আগামী নির্বাচনে বিজেপিকে মাত্র ২৬টি আসনেই আটকে দেবে বাংলার মানুষ।

আরও পড়ুন- মোদিরাজ্যে মন্দিরের শৌচালয় থেকে দুই কলেজ ছাত্রীর দেহ উদ্ধার, ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য

_

_

_

_

_
_


