ধর্মতলায় তৃণমূলের ধর্নামঞ্চ থেকে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তীব্র আক্রমণ করলেন দলের মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনার সাংবিধানিক নিয়ম মেনে নয়, বরং কেন্দ্রের শাসকদলের নির্দেশে কাজ করছেন। বিজেপি সরকারকে বিঁধে তন্ময় ঘোষের দাবি, ভারতের বহুত্ববাদী কাঠামো ধ্বংস করে একদলীয় শাসন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

মঙ্গলবার ধর্নামঞ্চ থেকে জুলিয়াস সিজারের উদ্ধৃতি টেনে তন্ময় ঘোষ বলেন, বর্তমানে নীতি বা সংবিধানের চেয়ে ক্ষমতার দাপটই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কার্যত নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের ‘আজ্ঞাবহ’ হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, “যিনি না মানেন নীতি, না মানেন সংবিধান—তিনিই হলেন আজকের ভ্যানিশ কুমার।”

তৃণমূল মুখপাত্রের আরও অভিযোগ, ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনকে অগ্রাহ্য করা হচ্ছে। এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার নামে বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তন্ময়ের কথায়, এই প্রক্রিয়ার জেরে বুথ লেভেল অফিসারদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ঘটনার জবাব নির্বাচন কমিশনারকে দিতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

ভারতের বহুত্ববাদী ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন সবসময় মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর জোর দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিজেপির রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও এদিন সরব হন তৃণমূল মুখপাত্র। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি সারা দেশে একটি দল, একটি ধর্ম এবং একটি মত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তন্ময়ের দাবি, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিম দা’ বলে সম্বোধন করা দলের হাতে রাজ্যের দায়িত্ব গেলে বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিপন্ন হবে। আদিবাসী, মতুয়া ও দলিতদের প্রতি বিজেপির দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। ধর্নামঞ্চ থেকে তিনি স্পষ্ট জানান, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার এবং সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা না হওয়া পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই আন্দোলন জারি থাকবে। তাঁর কথায়, “যারা বাংলাকে মানে না, বাংলাও তাদের কোনোদিন মেনে নেবে না।”

আরও পড়ুন- সাঁতরাগাছিতে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনার কবলে শ্রীজাত, পুলিশকে কড়া ব্যবস্থার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

_

_

_

_

_
_

