পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আঁচ দেশের জ্বালানিতে (LPG)। সঙ্কট রান্নাঘর থেকে পরিবহনে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার বিকেলে জরুরি ভিত্তিতে তিনটি তেল সংস্থা ও গ্যাস ডিলারদের সঙ্গে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আলিপুরের সৌজন্যে বৈঠকের পরে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এসওপি তৈরি করবে রাজ্য। রাজ্যে মজুত জ্বালানি বাইরে পাঠাবেন না-বৈঠকে ডিলারদের আর্জি জানিয়েছেন প্রশাসনিক প্রধান।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আঁচ দেশের জ্বালানিতে (LPG)। সঙ্কট রান্নাঘর থেকে পরিবহনে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার বিকেলে জরুরি ভিত্তিতে তিনটি তেল সংস্থা ও গ্যাস ডিলারদের সঙ্গে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আলিপুরের সৌজন্যে বৈঠকের পরে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এসওপি তৈরি করবে রাজ্য। রাজ্যে মজুত জ্বালানি বাইরে পাঠাবেন না-বৈঠকে ডিলারদের আর্জি জানিয়েছেন প্রশাসনিক প্রধান।

জ্বালানি সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য এদিন গ্যাস ডিলাদের জরুরি বৈঠকে ডাকেন মুখ্যমন্ত্রী। ছিলেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডে, খাদ্য দফতরের সচিব-সহ বহু প্রশাসনিক আধিকারিক।

ডিলারদের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ”সংকট কাটাতে আমরা বেশ কয়েকটা পদক্ষেপ নিলাম। ওঁদের সঙ্গে আলোচনা করে যা জানলাম, জ্বালানি তেল নিয়ে এখনও ততটা সমস্যা হয়নি। মূল সমস্যা হচ্ছে এলপিজি গ্যাসে। আমরা বললাম, রাজ্যে যা গ্যাস মজুত আছে, তা আর বাইরে পাঠাবেন না। সমস্যা মিটে গেলে আবার সেটা করতে পারেন। একটা এসওপি বা নির্দেশাবলি তৈরি হবে। ওঁদের সঙ্গে কথা বলেই তা হবে। ওঁরা আশ্বাস দিয়েছেন যে স্বাস্থ্যক্ষেত্র, মিড ডে মিল, আইসিডিএস সেন্টারগুলিতে কোনও সংকট হবে না। বলা হয়েছে, সরবরাহ যেন স্বাভাবিক থাকে। আমাদের কথা ওঁরা মেনে নিয়েছেন।বৈঠক ভালো হয়েছে। অযথা কেউ আতঙ্কিত হবেন না। আমি কাল আবার জেলাগুলির সঙ্গে ভারচুয়াল বৈঠক করব।”

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির জেরে বেড়েছে অটোর ভাড়া। এই সমস্যার সমাধান মুখ্যমন্ত্রী জানান, ”যাতে অটোওয়ালারা গ্যাস পেতে পারে তার ব্যবস্থা করুন। এজন্য রাজ্য সরকারের কাছ থেকে যে কো-অপারেশন পান তা আমরা করব। আমরা একটা ড্যাশবোর্ড তৈরি করব, ওরা রেগুলারলি স্টক সেটা জানাবে।” কালোবাজারি রুখতে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। বলেন, ”যাতে কেউ গ্যাসের দাম নিয়ে ব্ল্যাকমেলিং না করে তার দিকে পুলিশকে নজর রাখতে বলব। যদি হয় সেখান থেকে গ্যাস তুলে আমরা মানুষকে দিয়ে দেব।”

এছাড়া গ্রামীণ এলাকায় যাঁরা স্টোভে রান্না করেন তাঁদের কথা মাথায় রেখে কেরোসিনের প্রাপ্যতা বাড়ানোর বিষয়েও কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। রেশনে কেরোসিনের বরাদ্দ বাড়ানো এবং বাজারে তার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার কথাও তোলা হয়েছে বৈঠকে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটায় সমস্ত দফতর ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন তিনি। সেখানে জেলা ভিত্তিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, গ্যাস সরবরাহের চেইন মূলত কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও রাজ্য সরকার মানুষের স্বার্থে সব সংস্থাকে নিয়ে বৈঠক করে সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করেছে। এখন সংস্থাগুলি কতটা সেই সিদ্ধান্ত মেনে চলে, সেটাই দেখার বিষয়। একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার আবেদন জানান।

–

–

