গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধে ও সর্বত্র নিজেদের বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠা করতে একেক সময়ে একেক নীতি নিয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য যখন টাকা বন্ধের নীতি রয়েছে, তখন বিরোধী সাংসদদের (Parliament) জন্য সংসদের স্পিকারকে (Loksabha Speaker) দিয়ে সাসপেনশনের নীতি। আদতে এই মোদি সরকারের আমলে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করে যেভাবে সরকার সংসদ চালিয়েছে, লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লার (Speaker Om Birla) বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় সেই তথ্য তুলে ধরলেন তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ (Saayoni Ghosh)। তুলে ধরলেন কীভাবে জনগণের করের ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা নষ্ট হয়েছে, সংসদ মুলতুবি (adjournment) হওয়ার কারণে।

বিরোধী সাংসদদের যথেচ্ছভাবে সাসপেনশন ও আলোচনার আবেদন খারিজে বিজেপির বুলডোজার নীতি সংসদে চালাচ্ছে বিজেপির কেন্দ্রের সরকার। বুধবার সংসদে স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ তুলে ধরেন, যে নীতিতে সংসদ চালানো হচ্ছে তাতে আদর্শকে পাশে সরিয়ে রাখা, মতামতকে গুরুত্বহীন ও বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করাই লক্ষ্য। আমরা অন্যের অধিকারের জন্য কী লড়াই করব আমরা, যেখানে সংসদেই বিরোধীদের নিজেদের বক্তব্য রাখার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে।

স্পিকার ওম বিড়লার সময়ে কীভাবে চলেছে সংসদ, তার নিয়ে সায়নীর তথ্য পেশ, সংসদের অধিবেশনের দিন কমেছে ক্রমশ। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ১৫তম সরকারের সময়ে ৩৫৬ দিন চলেছিল সংসদের অধিবেশন (Parliament session)। গড়ে বছরে ৬১ দিন। ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ২৭৪ দিন। গড়ে ৫৫ দিন বছরে। যা ১৯৫২ সাল থেকে সবথেকে কম সময়। ২০২৫ সালের বর্ষাকালীন অধিবেশনে ১২০ ঘণ্টার মধ্যে ৩৭ ঘণ্টা লোকসভা, ৩৭ ঘণ্টা রাজ্যসভার অধিবেশন চলেছে।

তবে এখানেই শেষ নয়। জনগণের করের টাকায় চলা সংসদে বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বারবার লোকসভা মুলতুবি হয়ে যাওয়ায়। সেখানেই সায়নী তথ্য পেশ করেন, সংসদ চালাতে (Parliament session) প্রতি মিনিটে আড়াই লক্ষ টাকা খরচ। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের শীতকালীন অধিবেশন পর্যন্ত ২২০০ মিনিট, ৯২ দিন, ৩,৩০০ কোটির ক্ষতি। কারণ আপনি চাননি সংসদ চলুক।

আদতে সবটাই যে স্পিকার গাফিলতির কারণে, তার পিছনে সায়নীর যুক্তি, এই চেয়ারের কাজ এটা নিশ্চিত করা যে এই সংসদ চলুক। বিরোধীদের কাজ প্রশ্ন তোলা। সরকারের কাজ তার উত্তর দেওয়া, যাতে যে মানুষদের টাকায় এই সংসদ চলছে, তাঁরা সব প্রশ্নের উত্তর পান।

আরও পড়ুন : সংসদে বিরোধী সাংসদদেরই কেন সাসপেন্ড করা হচ্ছে? স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন মহুয়ার

আর স্পিকারকে সেই লক্ষ্যের হাতিয়ার হিসাবে কীভাবে ব্যবহার করেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার তার পিছনে সাংসদ সায়নীর দাবি, আদতে কেন্দ্রের সরকার একে নিজেদের বিজ্ঞাপণের জায়গা করে ফেলেছে। এবং স্পিকারের চেয়ারকে পরিচালনা করা হয়েছে যাতে তিনি বিরোধীদের চুপ করিয়ে দিতে পারেন। যেখানে বাইরে কেন্দ্রের নীতির প্রতিবাদ করলে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ইডি-সিবিআই-কে প্রয়োগ করে তাঁদের কণ্ঠরোধ হচ্ছে। সেই বুলডোজার নীতি সংসদের ভিতরেও। সেখানে প্রতিবাদ করলে সংসদ থেকে সাসপেন্ড। আজও বিরোধী সাংসদরা সাসপেন্ড হয়ে মকরদ্বারে বিক্ষোভে।

বুধবার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাশ সম্ভব হয়নি বিরোধীদের পক্ষে। লোকসভার আসন অনুযায়ী তেমনটা আগে নিশ্চয়তা থাকলেও বুধবার পক্ষে ও বিপক্ষের ভোটের ব্যবধান মাত্র ৫৫ ভোট। বিরোধী সাংসদদের মধ্যে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস ও অন্যান্যদের পক্ষে ২৩৮ ভোট হয়। এনডিএ জোটের পক্ষে ভোট দেন ২৯৩ সাংসদ। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও বিরোধীরা যে এনডিএ জোটের থেকে কোনও অংশে কম নয়, তা স্পষ্ট করে দেন তাঁরা। ধ্বনিভোটে অনাস্থা পাশ না হলেও লোকসভায় তুলে ধরা হয়, ন্যায্য কারণেই সেই দাবি উত্থাপন হয়েছিল।

–

–

