Saturday, March 14, 2026

কৃষিখাতে উন্নয়নের খতিয়ান উল্লেখ করে কৃষক দিবসে শুভেচ্ছা পোস্ট মুখ্যমন্ত্রীর 

Date:

Share post:

কৃষক দিবস (Farmer’s Day) উপলক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social media) শুভেচ্ছা পোস্ট বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ জমি আন্দোলনকে ঘিরে রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম (Nandigram)। তৎকালীন পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল ১৪ জনের। সেই কথা স্মরণ করে নিহতদের পরিবারকে শ্রদ্ধা জানিয়ে কৃষক দিবস (Farmer’s Day) পালনের কথা লিখেছেন মমতা। দীর্ঘ পোস্টে তিনি বাংলার সরকারের তরফে কৃষি খাতে কাজের খতিয়ানও উল্লেখ করেছেন।

মমতা লেখেন, ‘কৃষক দিবসে সকল আমার সকল কৃষক ভাইবোন ও তাঁদের পরিবারকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক শুভেচ্ছা। নন্দীগ্রামে কৃষিজমি আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিবছর এই দিনটিকে আমরা ‘কৃষক দিবস’ হিসেবে পালন করি। আমাদের কৃষকরা আমাদের গর্ব। তাঁরাই আমাদের অন্নদাতা। তাই তাঁদের প্রতিটি প্রয়োজনে আমরা তাঁদের পাশে থাকি। কৃষকবন্ধু (নতুন) প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা থেকে শুরু করে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি, শস্য বিমার যাবতীয় খরচ বহন করা থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আর্থিক সহায়তা, কৃষকের অকাল মৃত্যুতে কৃষক পরিবারের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে কৃষক পেনশন প্রদান, ১৮৬টি ‘কিষাণ মান্ডি’ চালু করা থেকে শুরু করে বিনামূল্যে কৃষি যন্ত্র প্রদান – সবকিছুই আমরা করেছি।’ মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও লেখেন, ‘কৃষকবন্ধু (নতুন) প্রকল্পে কৃষক, বর্গাদার, ভাগচাষীরা এখন বছরে ১০০০০ টাকা করে পান। যার সামান্য জমিও আছে তিনিও ন্যূনতম ৪০০০ টাকা পান। এই টাকা দুই কিস্তিতে, খরিফ আর রবি মরশুমে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই প্রকল্পে এখন পর্যন্ত মোট ৩০০৫১ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। উপকৃত হয়েছেন মোট ১.১৪ কোটিরও বেশি কৃষক, বর্গাদার ও ভাগচাষি।

এবার কৃষক, বর্গাদার এবং ভাগচাষিদের পাশাপাশি খেতমজুরদেরও বছরে দুই কিস্তিতে ৪,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। মোট প্রায় ২৮ লক্ষ আবেদনকারীদের ব্যাঙ্ক একাউন্টে গত ৮ই মার্চ থেকেই টাকা পাঠানো শুরু হয়ে গেছে। কৃষকবন্ধু (মৃত্যুজনিত সহায়তা) পেয়েছেন ১.৭০ লক্ষের বেশি কৃষক পরিবার। এই খাতে ৩৪১৯ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে।বাংলা শস্য বিমা যোজনায় প্রিমিয়াম-এর পুরো খরচ দেয় রাজ্য সরকার। এখনো পর্যন্ত ১.১৫ কোটি কৃষক ৪০০৫ কোটি টাকার বেশি বাংলা শস্য বিমার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন।কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পে এ পর্যন্ত ৬.০১ লক্ষেরও বেশি কৃষিযন্ত্র কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। খরচ হয়েছে ১৩২১ কোটি টাকার বেশি। এছাড়া, সরকারি সাহায্যে ২৫২৫টি কৃষিযন্ত্রাদি ভাড়া কেন্দ্র করা হয়েছে। আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহারে কৃষি উৎপাদন বাড়ছে যার সুফল পাচ্ছেন কৃষকরা। ফসলের অভাবী বিক্রি বন্ধ করার জন্য রাজ্য সরকার ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয় করছে। এই বছর ৭০ লক্ষ মেট্রিক টন ধান কেনা হচ্ছে। এছাড়া, প্রয়োজন মত অন্যান্য ফসলের ন্যায্য মূল্যে ক্রয়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।’ এদিন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে আগামী দিনে কৃষকদের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।


spot_img

Related articles

কলকাতায় শুষ্ক আবহাওয়া, শনিবার বৃষ্টি উত্তরবঙ্গে!

উইকেন্ডে সকাল থেকে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকলেও বেলা বাড়তে রোদের দাপট চওড়া হচ্ছে দক্ষিণবঙ্গে (South Bengal weather)। কলকাতায়...

IPL শুরুর আগেই নাইটদের বিরাট ধাক্কা, টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলেন হর্ষিত!

আগামী মাসের শুরু হচ্ছে আইপিএলের (IPL) নতুন সিজন। ইতিমধ্যেই প্রত্যেক দল নিজেদের টিম মেম্বারদের নিয়ে আলোচনায় বসার প্রস্তুতি...

দেশজুড়ে গ্যাস সংকট, মোদির সভার আগে দেদার সিলিন্ডার ব্যবহার করে রান্না বিজেপির

রাজ্যে আসছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। শনিবার দুপুরে কলকাতার ব্রিগেডে সভা করবেন তিনি। সকাল থেকে কলকাতামুখী...

নন্দীগ্রাম গণহত্যার ১৯ বছর পার, শহিদদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন মুখ্যমন্ত্রীর 

১৯ বছর আগে আজকের দিনে রক্তাক্ত হয়েছিল নন্দীগ্রাম (Nandigram)। পাল্টে গিয়েছিল বাংলার রাজনীতির প্রেক্ষাপট। বলা যায়, বাংলার রাজনৈতিক...