নরেন্দ্র মোদির ব্রিগেডের সভা উপলক্ষ্যে যে নজিরবিহীন সন্ত্রাস দেখেছে কলকাতা শহর, তা স্পষ্ট করে দেয় এই গুন্ডাগিরিকেই সমর্থন করে বিজেপির নেতৃত্ব। তবে শুধু রাজ্যের মন্ত্রের শশী পাঁজার উপর আক্রমণ নয়, খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মঞ্চ থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর (Chief Minister of West Bengal) উপর হামলা চালিয়ে তাঁকে আইসিইউতে ভর্তি করার হুমকি দিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। অথচ তারপরেও নীরব প্রধানমন্ত্রী থেকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। নির্বাচিত মহিলা মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে এমন মন্তব্যে চুপ করে থাকবে না বাংলা, দাবি রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের।

বিজেপির মঞ্চে উঠে বরাবর ফিল্মি বক্তৃতা দিতে পছন্দ করেন মিঠুন চক্রবর্তী। তবে এবার তিনি সব সীমা পার করে গেলেন। মঞ্চ থেকে দাবি করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত, পায়ের পর এবার আরও অন্য কিছু ভাঙতে পারে। যার ফলে তাকে আইসিইউতেই ভর্তি হতে হতে পারে। এমনকি সেখান থেকে তিনি তৃণমূলের ভোট প্রচার করতে পারেন, এমনটাও দাবি করেন মিঠুন চক্রবর্তী।

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১৪ সালে মিঠুন চক্রবর্তীকে রাজ্যসভার সাংসদ করেছিলেন। সম্মান কত দিয়েছিলেন তা সময়ই সাক্ষী। তা সত্ত্বেও তিনি বারবার কুশ্রী মন্তব্য তাঁর প্রতি করেন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ তো দূরের কথা, এবার সরাসরি হুমকির পথে হাঁটলেন মিঠুন। যা কার্যত তাঁর বিজেপিতে যোগদানের পর বিজেপির শিক্ষাকেই প্রতিফলিত করে।

সেখানেই প্রশ্ন তোলা হয় তৃণমূলের তরফে, বিজেপির নেতারা বারবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গে লঘু এবং অসম্মানজনক কথা বলে থাকেন। তবে এবার প্রকাশ্যে একজন মুখ্যমন্ত্রীকে হুমকি দেওয়া শুধুমাত্র অসম্মানজনক নয় আপত্তিকর।

আরও পড়ুন : ব্রিগেডে মোদির ১৮ হাজার কোটির ললিপপ: পাল্টা ২ লক্ষ কোটি দাবি তৃণমূলের

আর সেখানেই স্পষ্ট যে মহিলাদের প্রতি বিজেপির কী ধারণা। তৃণমূলের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়, কীভাবে একজন মহিলা, যিনি মানুষের দ্বারা নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister of West Bengal), তাঁর সম্পর্কে এমন কথা বলতে পারেন বিজেপি নেতারা? এটাই বিজেপির ফাঁপা নারী শক্তি স্লোগানের পিছনে লুকিয়ে থাকা আসল চিন্তাধারা। মহিলাদের কোনও সম্মানই তারা দিতে পারে না। বাংলা হুমকি বা ভয় দেখানো মেনে নেবে না। অথবা তাঁদের মুখ্যমন্ত্রীর সম্পর্কে এই বিকৃত নারীবিদ্বেষও মেনে নেবে না।

–

–

–

–
–
–


