মনোবল ভাঙলে চলবে না, বরং হারানো জমি পুনরুদ্ধারে দ্বিগুণ শক্তিতে রাস্তায় নামতে হবে— বৃহস্পতিবার কালীঘাটের বাসভবনে দলীয় সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে এই বার্তাই দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সতীর্থদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা আগেও বিরোধী আসনে থেকে লড়াই করেছি। আবারও লড়াই করব। আড়াই হাজার দফতর ভাঙচুর এবং কর্মীদের খুনের অভিযোগ তুলে নেত্রীর হুঁশিয়ারি, আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের ঘরে ফেরানোই এখন প্রধান লক্ষ্য।
এদিন কালীঘাটের এই জরুরি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সূত্রের খবর, বৈঠকে কর্মীদের চাঙ্গা করার পাশাপাশি ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরাতে তিনটি বিশেষ ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম’ গড়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই দলে সাংসদ ও বিধায়কদের পাশাপাশি পদাধিকারী নেতারাও থাকবেন।

বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নেত্রী আমাদের মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছেন। এই লড়াই কেবল বিজেপির বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল কেন্দ্রের সংহত শক্তির বিরুদ্ধে। ভোট গণনার দিনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা জোর করে গণনা প্রতিনিধিদের বের করে দিয়েছিল। এমনকী প্রার্থীর পরিচয়পত্র ছিঁড়ে ফেলার মতো নজিরবিহীন ঘটনাও ঘটেছে বলে তাঁর দাবি।

গণনার অস্বচ্ছতা নিয়ে সরব হয়ে কল্যাণ আরও বলেন, ইভিএম তথ্যের সঙ্গে ‘ফর্ম ১৭সি’-র কোনও মিল পাওয়া যায়নি। ৯০ শতাংশের বেশি ব্যাটারি চার্জ থাকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সংবাদমাধ্যমের একাংশ বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কর্মীদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সত্য একদিন সামনে আসবেই। সাধারণ মানুষের ভোট যেভাবে লুট করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথের আন্দোলনও জারি থাকবে বলে তৃণমূল সূত্রে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন – “১ টাকায় মনোরঞ্জনকে সই করান”, প্রয়াত টুটুকে নিয়ে অজানা কথা শোনালেন দেবাশিস

_

_

_
_
_
_
