সকাল ১০টা বা ১১টা বাজলেই আইআরসিটিসি-র (IRCTC) সাইটে রেলের (Indian Railways) টিকিট কাটতে গেলে যেন তাড়াহুড়ো লেগে যায়! হাজার চেষ্টা করেও পেজ খোলে না, আর যখন খোলে তখন হয় ‘সেশন এক্সপায়ারড’ নয়তো ‘রিকোয়েস্ট ফেইলড’ কিংবা কাউন্টারে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতেই চোখের সামনে ‘কনফার্ম টিকিট সোল্ড আউট’- কোটি কোটি ভারতীয় যাত্রীর এই দুর্ভোগান্তির দিন এবার শেষ হতে চলেছে। প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা খরচ করে গোটা বুকিং সিস্টেম বা পিআরএস (PRS) আমূল বদলে ফেলছে ভারতীয় রেল।

এতদিন রেলের সার্ভারে প্রতি মিনিটে বড়জোর ২৫ হাজার টিকিট বুক করা যেত। নতুন সিস্টেম চালু হলে সেই ক্ষমতা একধাক্কায় বেড়ে হবে মিনিটে ১ লক্ষ ২৫ হাজার। অর্থাৎ, বুকিং স্পিড বাড়বে বর্তমানের তুলনায় ৫ গুণ। সেন্টার ফর রেলওয়ে ইনফরমেশন সিস্টেমস (CRIS) তরফে জানা গিয়েছে এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যেই এই নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হয়ে যেতে পারে। ফলে তৎকাল টিকিট কাটার অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমবে।

তৎকাল বুকিং শুরু হতেই ‘গদর’ (Gadar), ‘স্পেস-এক্স’ (SpaceX) বা ‘অ্যাভেঞ্জার’ (Avenger) -এর মতো বেআইনি সফটওয়্যার বা বট সেকেন্ডের মধ্যে সব টিকিট লুটে নিত। তাদের রুখতে কোমর বেঁধে নেমেছে রেল। ইতিমধ্যেই প্রায় আড়াই কোটি ভুয়ো ইউজার আইডি ব্লক করেছে IRCTC। নতুন সিস্টেমে এমন এক সুরক্ষা কবচ তৈরি করা হচ্ছে যাতে কোনও ‘বট’ বা ফেক অ্যাকাউন্ট বুকিং প্রক্রিয়ায় ঢুকতে না পারে।

রেলের এই ডিজিটাল ভোলবদলে পাল্টে ফেলা হচ্ছে হাজার হাজার পুরনো যন্ত্রাংশ। মোট ৫,৭৮৮টি রাউটারের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৩,০০০টি বদলে ফেলা হয়েছে। ৫,০০০ বুকিং টার্মিনালের মধ্যে সাড়ে ৩ হাজারটিতে বসেছে নতুন অ্যাপ্লিকেশন। এছাড়া, প্রায় ৪০ বছরের পুরনো ‘ফোরট্রান ৭৭’ (Fortran 77) কোডিং ছেড়ে রেল এবার ব্যবহার করছে ‘রেড হ্যাট লিনাক্স’ (Red Hat Linux) সমৃদ্ধ ওপেন-সোর্স প্ল্যাটফর্ম। এর ফলে রেল আর কোনও নির্দিষ্ট বিক্রেতার ওপর নির্ভরশীল থাকবে না।

ইউক্রেন বা ইরানের মতো সাইবার হামলার হাত থেকে বাঁচতে রেল তৈরি করছে নিজস্ব সুরক্ষা বলয়— ‘IR-SOC’। ৬০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে সারা দেশে ২৬টি সাব-সেন্টার তৈরি হবে, যা ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি চালাবে ডিজিটাল পরিকাঠামোয়।

অন্যদিকে, শুধু রিজার্ভেশন নয়, লোকাল বা জেনারেল ট্রেনের টিকিট কাটার ‘ইউটিএস’ (Unreserved Ticketing System) ব্যবস্থাকেও ২০০ কোটি টাকা খরচ করে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে জেনারেল টিকিট কাউন্টারের লম্বা লাইনও অনেকটা কমবে।

–

–

–

–
