“এই মিছিল ইলেকশনের আগেই ঠিক করা ছিল। গ্যাসের (Gas) দাম যে ভাবে বেড়েছে সে জন্য এই কর্মসূচি নিয়েছি। কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করেছে কেন্দ্র। আমি গ্যাস কোম্পানিগুলির সঙ্গে মিটিং করে জেনেছি, সঙ্কট নেই“- মিছিল শেষে ধর্মতলায় কেন্দ্রের মোদি সরকারকে এভাবেই নিশানা করলেন তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। 

মমতা বলেন, “আমরা বলছি সার্ভার ওপেন করুন। কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করা হয়েছে। আমি বাজে কথা বলি না। আজ মিছিলে প্রমাণ হয়ে গেছে, যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা। বাংলার ইলেকশন শান্তিপূর্ণ ভাবে করে দিন। কেউ কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না। তার পর দিল্লিটা আমরা বুঝে নেব। আমরা কেউ দুর্বল নই। চার বছর ধরে তো টাকাই দেন না। তার পরেও মানুষের জন্য স্কিম বেড়েছে। আরও বাড়বে। বিশ্বাস, ভরসা, আস্থা রাখুন। এই মিছিল ইলেকশনের আগেই ঠিক করা ছিল। কারণ, গ্যাসের দাম যে ভাবে বেড়েছে সে জন্য এই কর্মসূচি নিয়েছি। কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করেছে কেন্দ্র। আমি গ্যাস কোম্পানিগুলির সঙ্গে মিটিং করে জেনেছি, সঙ্কট নেই। আমরা বলছি সার্ভার ওপেন করুন। কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করা হয়েছে। মানুষ যখন অ্যাপ্লাই করেছে, দেখেছে লাইন পাচ্ছে না। আমরা প্রথম দিনই এর প্রতিবাদ করেছি। ক্যাশ দিয়ে লাভ নেই। গ্যাস দিন মানুষকে।“

এরপরেই মোদিকে নিশানা করে মমতা (Mamata Banerjee) বলেন, “এত পাবলিসিটি না করে গ্যাসের দামটা ঠিক করতে পারতেন। উনি বলেন, এখানে কাজ নেই। তাই বাইরে যাচ্ছে বাঙালি। আমি বলি, উত্তরপ্রদেশ, বিহারের কত মানুষ কাজ করেন? তোমাদের রাজ্যে মেধা নেই বলে বাঙালিদের নিয়ে যাও। আগে বাংলাটা ভাল করে শিখে আসুন। না-হলে বলার প্রয়োজন নেই। রানি রাসমণিকে বলছেন রসোমণি! মাতঙ্গিনীকে কী যেন বলেছিলেন, আমি উচ্চারণ করতে পারছি না। এবার আরও খেলা হবে। বিজেপিকে ছক্কা মারুন। ছক্কা মেরে অক্কা করে দিতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেস জিতছে। বাংলার মানুষ জিতছে। এ বার আমাদের সিট আরও বাড়বে, তোমরা রসাতলে যাবে। ভয় না পেলে কেউ বলে, কালীঘাটেও অ্যাটাক করব! যিনি বলেছেন তাঁকে আমি সাহায্য করেছি। রাজনৈতিক সৌজন্য। কিন্তু গ্যাস খেয়ে এসব বলবেন না।“
আরও খবর: মধ্যরাতে গুপ্ত তাণ্ডব! রাতারাতি মুখ্যসচিব বদলে ‘মহিলাবিদ্বেষী’ বিজেপি-কমিশনকে নিশানা মমতার

লিস্টে নাম না থাকা দিশেহারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এরপর বলেন, “আবার দেখা হবে। নবান্নে দেখা হবে। দেখব, কত হামলা, কত বদলা নিতে পারো। কেন মানুষের উপর ভরসা নেই? লড়াইয়ে থাকবেন বন্ধুরা, আমি থাকব লড়াইতে। আমি তো যাবই না। মাথায় রাখবেন কোনও ঘটনা ঘটলে প্রধানমন্ত্রী থেকে এই সবক’টাকে দায়িুত্ব নিতে হবে। খেয়াল রাখবেন, বিহার, হরিয়ানা থেকে কাউকে এনে যেন ভোট করতে না পারে। টাকা ছড়াতে না পারে। আমি আরএসএসকে আগে শ্রদ্ধা করতাম, গান্ধীজির মৃত্যুর পরে করি না। সুপ্রিম কোর্টের উপর আমাদের আস্থা আছে। যাঁদের নাম কাটা যাবে ট্রাইবুনালে যাবেন। আপনারা যাবেন। সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে নাম বাদ গেলে BLA-1 BLA2-দের সঙ্গে ট্রাইব্যুনালে অ্যাপ্লাই করবেন। সেখানে বিনা পয়সায় আইনজীবীরা সাহায্য করবেন যাতে আমরা যাদের নাম বাদ যাবে, নাম তোলার জন্য চেষ্টা করতে পারি।“

–

–

–

–

–

–

