জনসংযোগ ও মানুষের উন্নয়নের নীতিতে যেখানে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে গত বিধানসভা নির্বাচনের থেকেও বেশি আসনে জয়ের পরিকল্পনা করেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস, সেখানে লোক দেখানো বা দলের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন বেশ কিছু বিধায়ক থেকে প্রথম সারির নেতাদের বাদ রাখা হয়েছে প্রার্থী তালিকা (candidate list) থেকে। তার বদলে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের (2026 Assembly Election) প্রার্থী তালিকায় জায়গা পেলেন দল তথা এলাকায় সক্রিয় নেতৃত্ব। সেই ধারা বজায় রাখতে গিয়ে নয়টি জেলায় জেলা পরিষদের সভাধিপতিদের (sabhadhipati) প্রার্থী ঘোষণা করা হল।

যে নয় জেলা থেকে জেলা পরিষদের সভাধিপতিদের প্রার্থী করা হল তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব মেদিনীপুর ও উত্তর চব্বিশ পরগণা। বীরভূমে (Birbhum) তৃণমূল জেলা সভাপতির পদ দীর্ঘদিন খালি থাকা অবস্থায় পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রথমবার প্রার্থী হন ফায়জুল শেখ ওরফে কাজল শেখ (Kajal Sheikh)। তবে তিনি তার আগে থেকেই চর্চায়। কোর কমিটি দিয়ে জেলার রাশ ধরার সময় যে কাজল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন, তাঁর উপর আস্থা রেখে জেলার অপেক্ষাকৃত সহজ আসন হাসন থেকেই তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে।

পূর্ব মেদিনীপুরের (East Medinipur) জেলা পরিষদ সভাধিপতি উত্তম বারিক (Uttam Barik) ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। গোটা জেলার উপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সন্তুষ্ট দল। সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি সমবায় নির্বাচন যার প্রমাণ। এমনকি শুভেন্দু অধিকারীর গড়েও একাধিক সমবায় জয়ের পিছনে তাঁর ভূমিকা রয়েছে। ফলে এবার তাঁকে তাঁর জেতা কেন্দ্র পটাশপুর থেকে চণ্ডিপুরে প্রার্থী করেছে তৃণমূল।

মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে নিয়োগ দুর্নীতি সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন জেলা পরিষদ সভাধিপতি অপূর্ব সরকার। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ও বিজেপির ভোট কাটাকাটির খেলা ঠেকিয়ে ইউসূফ পাঠানকে সাংসদ নির্বাচিত করতেও অপূর্ব সরকার (Apurba Sarkar) ওরফে ডেভিডের ভূমিকা দলে তাঁর গুরুত্ব বাড়িয়েছে। জেলা পরিষদ সভাধিপতি পদেও তাঁকে রেখে অধীর চৌধুরির মতো প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদকে টক্কর দিতে সফল তৃণমূল। ফলে তিনি যে প্রার্থী হবেন তা নিয়ে সন্দেহ ছিল না। সম্প্রতি কান্দি বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস ভাঙন ধরানোতেও সক্ষম ডেভিড। সেই কান্দি থেকেই এবার তৃণমূলের প্রার্থী অপূর্ব সরকার।

রাজ্যের এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় যে সম্প্রদায়ের মানুষ সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তার মধ্যে অন্যতম মতুয়া সম্প্রদায়। ফলে উত্তর চব্বিশ পরগণার মতুয়া অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলি রাজ্যের শাসকদলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দলের পুরোনো ও যে কোনও সংগ্রামে ঢাল হয়ে দাঁড়ানো নেতৃত্বের উপর যে এই জেলায় তৃণমূল ভরসা রাখবে তা বলাই বাহুল্য। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের অনুপস্থিতিতে যে নেতা তথা বিধায়ক এই কাজ করেছেন তিনি জেলা পরিষদ সভাধিপতি (sabhadhipati) নারায়ণ গোস্বামী (Narayan Goswami)। সেক্ষেত্রে তাঁর অশোকনগর থেকে প্রার্থী হওয়াও এক কথায় নিশ্চিতই ছিল।

আরও পড়ুন : নারী ক্ষমতায় জোর দলনেত্রীর: তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় ৫২ মহিলা

এর পাশাপাশি মালদহের (Maldah) জেলা পরিষদ সভাধিপতি লিপিকা বর্মণকেও প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি মালদহ কেন্দ্রের প্রার্থী। হুগলি (Hooghly) জেলা পরিষদ সভাধিপতি রঞ্জন ধারাকে প্রার্থী করা হয়েছে বলাগড় থেকে। পশ্চিম মেদিনীপুরের (West Medinipur) জেলা পরিষদ সভাধিপতি প্রতিভা রানি মাইতিকে নারায়ণগড় থেকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। এছাড়াও পুরুলিয়ার (Purulia) জেলা পরিষদ সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হয়েছেন পুরুলিয়া কেন্দ্র থেকে। পূর্ব বর্ধমান (East Burdwan) জেলার জেলা পরিষদ সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার এবার আউসগ্রামের প্রার্থী।

–

–

–

