নির্বাচন কমিশনের তুঘলকি আচরণের বিরুদ্ধে তৃণমূল সুপ্রিমোর লড়াইয়ে পাশে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা (Omar Abdullah) ও দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal)। নিজেদের এক্স হ্যান্ডেলে মমতা পোস্ট শেয়ার করে কমিশন ও বিজেপিকে এক বন্ধনীতে রেখে নিশানা করেন দুজনেই। নির্বাচন ঘোষণার রাত থেকে রাজ্যের শীর্ষ স্থানীয় আধিকারিকদের ইচ্ছেমতো বদল করেছে নির্বাচন কমিশন। আগেই একে “মধ্যরাতে গুপ্ত তাণ্ডব” বলে তীব্র আক্রমণ করেন তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার, কমিশনের এই তুঘলকি আচরণ নিয়ে ফের স্যোশাল মিডিয়ায় সরব হন তৃণমূল সভানেত্রী। নিজের এক্স হ্যান্ডেল (X-Handle) একের পর এক কমিশনের নোটিশ পোস্ট করে লেখেন, ”বর্তমানে যা দেখছি, তা কার্যত একটি অঘোষিত জরুরি অবস্থা এবং এক ঘোষণাহীন রাষ্ট্রপতি শাসন ছাড়া আর কিছুই নয়।” আমলা রদবদল নিয়ে মমতার অভিযোগকে সমর্থন করছেন ওমর আবদুল্লা ও কেজরিওয়াল।

তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব আগেই অভিযোগ করেছে, বিহার বা অন্য ডবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যে কমিশনের এই তুঘলকি আচরণ দেখা যায়নি। সেই সুরে সুর মিলিয়েই জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা বলেন,
“এই ধরনের ব্যাপক রদবদল বা বদলি কেবল অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতেই ঘটে- বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তবে, পশ্চিমবঙ্গ ফের সেই সত্যটিই প্রমাণ করবে যেটা আমি সবসময় বিশ্বাস করে এসেছি যে, রাজনৈতিক দলগুলির হয়ে নির্বাচনে জয় এনে দেন সেই দলের নেতারাই, আধিকারিকরা নন। নির্বাচন কমিশন ভোটের ফল প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে যতই কারসাজির চেষ্টা করুক, তাতে ফলের কোনও পরিবর্তন হবে না। ভোট গণনার দিন মমতা দিদি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করবেন।“

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) বারবার অভিযোগ করেছেন, দিল্লি, মহারাষ্ট্রের নির্বাচনেও ভোটার লিস্টে কারচুপি করেই জিতেছে গেরুয়া শিবির। ওরা আগে ধরতে পারেনি বলেই কেজরিওয়াল বা ঠাকরেদের সরে যেতে হয়েছে। এদিন নিজের এক্স হ্যান্ডেলে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর বৃহস্পতিবারের পোস্ট শেয়ার করে সেইকথা স্বীকার করে নেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আপ প্রধান। তিনি লেখেন,
“অসৎ উপায়ে ভোট জেতার জন্য নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের অস্ত্র বানিয়েছে বিজেপি। আজ পশ্চিমবঙ্গে যা ঘটছে, দিল্লির নির্বাচনেও ঠিক সেটাই হয়েছিল। ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে ফেলা হয়েছিল, পুলিশ প্রশাসন বিজেপির গুণ্ডামিকে প্রশ্রয় দিয়েছিল এবং পুরো প্রশাসন বিজেপিকে জেতানোর কাজেই ব্যস্ত ছিল। গণতন্ত্রকে ভেঙেচুরে দেওয়া হয়েছিল। আজ মমতা দিদিও গণতন্ত্রকে বাঁচানোর জন্য লড়ছেন। এই লড়াই আমরা তাঁর সঙ্গে আছি।“

অবিজেপি রাজ্য দুটিকে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও সংস্থা দিয়ে মোদি সরকার যে কোণঠাসা করতে ও দখল করতে চাইছে- এই অভিযোগ বারবার করেছে মমতা-অভিষেক। অন্যান্য বিজেপি বিরোধী দলগুলিও সেই অভিযোগকে সমর্থন জানাচ্ছে শুধু তাই নয়, মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়ে পাশে থাকার আশ্বাসও দিচ্ছে।

–

–

–

–

–

–
