আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন যাতে সম্পূর্ণভাবে অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং ভয়মুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়, তার জন্য এবার কোমর বেঁধে নামল রাজ্য প্রশাসন। সোমবার নবান্ন থেকে এক কড়া নির্দেশিকা জারি করে রাজ্যের সব দফতর, জেলাশাসক এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের একগুচ্ছ সতর্কবার্তা দিয়েছেন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়াল। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্বাচনে কোনও ধরনের হিংসা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা প্রলোভন বরদাস্ত করা হবে না। ভোটগ্রহণের দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার।

মুখ্যসচিবের জারি করা ওই নির্দেশিকায় পরিষ্কার বলা হয়েছে, ছাপ্পা ভোট, বুথ জ্যামিং এবং ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা রুখতে কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে। প্রতিটি ভোটার যাতে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে এবং নির্ভয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তার জন্য প্রয়োজনীয় সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক কর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বুথস্তরে নিরাপত্তার এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষের মনে কোনও সংশয় না থাকে।

নির্বাচন কমিশনের আদর্শ আচরণবিধি (মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট) পালনের ক্ষেত্রেও বিন্দুমাত্র শিথিলতা দেখাতে নারাজ নবান্ন। সরকারি দফতর থেকে শুরু করে পাবলিক সেক্টর সংস্থা, স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় পুরসভা বা পঞ্চায়েত— প্রতিটি স্তরে এই বিধিনিষেধ কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব। কোনও স্তরে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে ওই নির্দেশিকায়।

প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়াতে সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন মুখ্যসচিব। আগামী দু’দিনের মধ্যে এই নির্দেশিকা রাজ্যের সব স্তরের সরকারি কর্মীদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। শুধু তাই নয়, নির্দেশিকা কার্যকর হয়েছে কি না, সেই বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নবান্নে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে জেলাশাসকদের। রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে যখন নির্বাচন কমিশন রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে অতি-সক্রিয়, তখন নবান্নও নিজের ঘর গুছিয়ে অবাধ নির্বাচনের বার্তা দিয়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন- ভোটের মুখে মহকুমাশাসক স্তরেও কোপ, রাজ্যে একযোগে ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে সরাল কমিশন

_

_

_

_

_
_
