দারিদ্র-আর্থিক প্রতিকূলতা-কঠিন সংগ্রামকে হারিয়ে অ্যাথলেটিক্সের ট্রাকে সোনালী সাফল্য, কিন্তু প্রচারের আলো না পেয়ে হারিয়ে যান গ্রাম-জেলার প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদরা। হুগলির তারকেশ্বরের বুলটি রায় (Bulti Roy), ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে দেশে বিদেশে প্রতিপক্ষদের হারিয়ে সোনা-রুপো জিতেছেন। তবে আসল প্রতিদ্বন্দ্বী যে দারিদ্র।

তারকেশ্বর বাজারের কাছে ছোট্ট একটা টালির ঘর, দু জন মানুষ পাশাপাশি দাঁড়ানোই কঠিন। কিন্ত সেই ঘর জুড়ে রয়েছে অগুন্তি সোনা রুপোর পদক আর স্মারক। ছোট্ট ঘরে স্বামী-ছেলে-মেয়েকে নিয়েই দিন গুজরান করতে হয় বুলটিকে (Bulti Roy)। সেই ঘাপটি মেরে আছে চমর দারিদ্র যার সঙ্গে লড়েই বুলটিকে জিততে হচ্ছে পদক। যা মাঠের লড়াইয়ের থেকেই কঠিন-কঠোর।

আইকন সোনার মেয়ে জ্যোর্তিন্ময়ী শিকদার, তাঁকে দেখেই ৬ বছর বয়স থেকেই শুরু মাঠে যাওয়া। গ্রামের মেয়ে মাঠে দৌড়াবে শুরুতে আপত্তি ছিল পরিবারের। কিন্ত বুলটির জেদের কাছে হার মানেন মা-বাবা। সেই শুরু, কয়েক দিন আগেই আবু ধাবি থেকে পদক এনেছেন। এবার লক্ষ্য় জাপান থেকে পদক আনা।

কিন্তু আর্থিক সংগ্রামের সঙ্গে অসম লড়াইয়ে টিকে থাকা কঠিন হচ্ছে বুলটির। ডায়েট বলতে কখনও শুধু ভাত, অর্ধেক ডিম। সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিয়ে যে টুকু বাঁচে সেটাই সোনার মেয়ের পাথেয়। পেটে খিদেই নিয়েই শুরু হয় সোনা জয়ের শপথ, হাড় ভাঙা অনুশীলন। একটা চাকরি বদলে দিতে পারে বুলটির জীবন।

রাজ্য সরকার,প্রতিভাবান অ্যাথলিটদের পাশে থাকেন, তাদের চাকরির ব্যবস্থা করেন। কেন্দ্র-রাজ্য সবার কাছেই বুলটির আবেদন শুধু চাকরি। যা তাঁকে আরও ভালো পারফরম্যান্স করতে সাহায্য করবে। নিস্তার পাবেন দারিদ্রের করাল গ্রাস থেকে।

–

–

–

–

–
