রাজনৈতিক পথ নির্ধারক সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার ও আইপ্যাক দফতরে ঢুকে নির্বাচনের আগে দলীয় তথ্য সারনোয় অভিযুক্ত হয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। সেই অভিযোগ সামাল দিতে দিশাহারা ইডি শেষপর্যন্ত বারবার পিটিশন বদল করে থিতু হয়েছে ইডি আধিকারিকদের (ED Official) মৌলিক অধিকার (fundamental right) হরণ করায়। তাঁদের দাবি, আধিকারিকদের উপর পুলিশ নিয়ে চাপ প্রয়োগ করে মৌলিক অধিকার হরণ করার হয়েছে। মঙ্গলবার সেই শুনানিতে মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত আলোচনায় তোলপাড় দেশের শীর্ষ আদালত (Supreme Court)। আদতে একজন ইডি-র আধিকারিক ও সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার কতটা এক হতে পারে, তা নিয়েই প্রশ্নের উত্তর মঙ্গলবার অমীমাংসিত থাকল সুপ্রিম কোর্টে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) তৃণমূল নেত্রী হিসাবে দলীয় কাগজ থেকে পেনড্রাইভ, ল্যাপটপ আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও দফতর থেকে তুলে নিয়ে আসায় যে পুলিশের ভূমিকা ছিল, তা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন ইডি আধিকারিক। আদতে সেই আবেদনে কোন মৌলিক অধিকার হরণ হয়েছে, সেই প্রশ্ন প্রথম মঙ্গলবার তোলেন রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল। সেই সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, একজন সরকারি আধিকারিক হিসাবে আদৌ সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারা (Article 32) অনুযায়ী মৌলিক অধিকার হরণের প্রশ্ন তিনি তুলতে পারেন কি না। আদতে সরকারি কর্মী হিসাবে কাজ করতে গিয়ে বাধা পাওয়া মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

আদতে ইডি আধিকারিক রবিন বনসলকে দিয়ে যে মামলা করানো হয়েছে, সেখানে যে মৌলিক অধিকার হরণের প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সেই মামলা কতটা যুক্তি গ্রাহ্য, সেই প্রশ্নই তোলেন রাজ্য ও রাজ্যের আধিকারিকদের পক্ষের আইনজীবীরা। এর আগে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের পথনির্দেশক সংস্থার দফতরে ইডি তল্লাশি নিয়ে রাজনৈতিক অভিসন্ধির প্রশ্ন তুলেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই প্রশ্নে গুরুত্ব দিয়েই মামলার শুনানিতে সময় নিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবারের শুনানিতেও বিচারপতি পি কে মিশ্র (Justice P K Mishra) সেই প্রসঙ্গ তোলেন।

মঙ্গলবারের শুনানিতে বিচারপতি পি কে মিশ্র উল্লেখ করেন, যে কোনও সংস্থা যেমন ইডি-র আধিকারিক হিসাবে কাজ করার জন্য সেই ব্যক্তি তাঁর নাগরিকত্ব হারাতে পারেন না। নাগরিক হিসাবে তাঁদের মৌলিক অধিকারও রয়েছে। সেখানেই পাল্টা তৃণমূলের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, একজন বিচারপতির (Justice) আসনের বিশেষাধিকার যেভাবে একজন সাধারণ নাগরিক পান না। সেভাবেই একজন ইডি-র আধিকারিক (ED Official) সাধারণ নাগরিকের মতো সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারা অনুযায়ী মৌলিক অধিকারের (fundamental right) আবেদন করতে পারেন না।

আরও পড়ুন : SIR মামলাতে থেকে আইপ্যাক কাণ্ড, আজ নজর সুপ্রিম কোর্টে

অন্যদিকে যে পুলিশের বিরুদ্ধে মৌলিক অধিকার হরণের অভিযোগ, রাজ্যের তৎকালীন সেই ডিজিপি রাজীব কুমারের পক্ষে আইনজীবী অভিষেক মনু সাংভি তুলে ধরেন, অভিযোগকারী না একজন সাধারণ মানুষ, না একজন নাগরিক হিসাবে এই প্রশ্ন তুলেছেন। সেখানেও তিনি নিজেকে ইডি-র আধিকারিক হিসাবেই দেখিয়েছেন। সেক্ষেত্রে তাঁদের করার কিছু ছিল না, এই কথা বলাই মনগড়া কথা বলে তিনি শুনানিতে উল্লেখ করেন।

কার্যত শুনানি শেষে মঙ্গলবার আদৌ এই মামলা গ্রহণযোগ্য কি না, তার নিষ্পত্তি করতে পারেনি বিচারপতি পি কে মিশ্র ও বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ। মামলার পরবর্তী শুনানি এপ্রিলে।

–

–

–
