বিধানসভা নির্বাচনের আগে যখন প্রার্থী তালিকা, জয়-পরাজয়, ভোট কাটাকাটি নিয়ে গত ছয় মাস ধরে গোটা রাজ্যে অস্থিরতা, তখনই এক নীরব অস্থিরতার মধ্যে কাটাচ্ছেন অভিনেতা-পরিচালক অনির্বাণ ভট্টাচার্য (Anirban Bhattacharya)। টলিউডে তিনি একঘরে না সুযোগ পাচ্ছেন নতুন করে, সেই আলোচনা পরিচালক থেকে ভক্ত মহলে। তার মধ্যে তাঁর হাতিয়ার একমাত্র গানের দল হুলিগান-ইজম (Hooliganism)। এবার সেই দল নিয়ে কী তিনি ভোটের ময়দানে নামতে চলেছেন? যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) ‘সংস্কৃতি ২০২৬’ অনুষ্ঠানে নিজেদের পরিচিত স্যাটায়ারের (political satire) ছলে ভক্তদের নতুন ‘ভাষা’ দিলেন অনির্বাণ।

বেশ কিছুদিন ধরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্য়ালয়ে হুলিগানইজম-এর অনুষ্ঠানের প্রচার করছিলেন দলের সদস্যরা। সেই অনুষ্ঠানে অনির্বাণ নতুন কিছু আনবেন, তার অপেক্ষা করছিল গোটা যাদবপুর। প্রত্যাশা পূরণ করলেন অনির্বাণ। রাজনৈতিক ব্যঙ্গ যে যাদবপুরে ভালো প্রচার পাবে তা হুলিগানইজমের অজানা ছিল না। সেই রাজনৈতিক ব্যঙ্গ নিয়েই নতুন পরিবেশন, পুরোনো মোড়কে যাদবপুরে তুলে ধরলেন তাঁরা।

এর আগে একাধিক রাজনৈতিক নেতাকে নিয়ে রাজনৈতিক ব্যঙ্গের গান শোনা দিয়েছে হুলিগানইজমের অনুষ্ঠানে। সেই সুরকেই যাদবপুরে কাজে লাগালেন তাঁরা। তৃণমূল, বিজেপি, সিপিআইএমের মতো রাজনৈতিক দলগুলির রাজনৈতিক লড়াইয়ে সাধারণ মানুষ কীভাবে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছেন, সেই বার্তা এবার তাঁদের গানে। সেই সঙ্গেই অনির্বাণ প্রশ্ন করেন – নতুন পার্টি চান? উত্তরে গোটা যাদবপুর যেন উল্লাসে ফেটে পড়ে জানায় – হ্যাঁ। আর তার পরই অনির্বাণের (Anirban Bhattacharya) ঘোষণা – বাঁশ চিহ্নে ভোট দিন।

দলীয় প্রতীকগুলির থেকে একেবারে নতুনভাবে প্রতীকের ঘোষণা অনির্বাণের। আর সেই প্রতীক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। খানিকটা যেভাবে টলিউডে (Tollywood) প্রতিবাদ করার জন্য কাজের ক্ষেত্রে প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়েছে, তারই প্রতিফলন তাঁর প্রতীক ঘোষণায়। সেই সঙ্গে গানের সুরে জানালেন নতুন দল – জয় শ্রী হুলিগান। তবে গোটাটাই যে ভোটের বাজারে প্রাসঙ্গিকতা রেখে এক অসাধারণ রাজনৈতিক ব্যঙ্গের প্রকাশ, তা শ্রোতা ও ভক্তদের উদ্দীপনাতেই প্রমাণিত। সেই সঙ্গে যেন কোথায় তাঁর নিজের প্রতি হওয়া অবিচারের প্রতিবাদ গানের ভাষায়।

আরও পড়ুন : দেবের ক্ষমা চাওয়াতে খুশি নন অনির্বাণ! কী মন্তব্য অভিনেতা- পরিচালকের

এখানেই অবশ্য হুলিগানইজম থেমে থাকেনি। সম্প্রতি রামনবমী নিয়ে আলোচনায় এসেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ঘটা করে হয়েছে রামনবমীর পুজো। সেই প্রাসঙ্গিকতা রেখে ভিড়ের মধ্যে হনুমান লুকিয়ে থাকার যে গান পরিবেশন করে হুলিগানইজম তা তাঁদের শৈল্পিক নৈপুন্যের প্রকাশ। আবার ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা থেকেও সরে আসেনি তাও যাদবপুরের সংস্কৃতি ২০২৬-এ প্রমাণ রাখলেন তাঁরা।

–

–

–

–
