তালসারিতে বাংলা ধারাবাহিক ‘ভোলে বাবা পার করেগা’র শুটিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunoday Banerjee)। রবিবার সন্ধ্যায় এ খবর প্রকাশ আসার পর থেকে অভিনেতার অকালমৃত্যুতে শোকের ছায়া টলিউডসহ নাট্য-সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক মহলেও। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের সঙ্গে প্রযোজনা সংস্থা ও ইউনিটের সদস্যদের বয়ানের অসংগতি থেকে একাধিক প্রশ্ন মাথা ছাড়া দিচ্ছে। এবার সংশ্লিষ্ট ধারাবাহিকের প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে এফআই আর করার পাশাপাশি তাকে ব্ল্যাকলিস্ট (Black List) করার দাবি তুলল সর্বভারতীয় সিনে ওয়ার্কার্স সংগঠন (All India Cine Workers Association)।


রাহুলের মৃত্যুর পর থেকে একাধিক তত্ত্ব ঘোরাফেরা করছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তালসারি ইউনিটের সদস্যরা কখনও বলছেন, রাহুলকে জল থেকে তোলার পর তাঁর নাকি জ্ঞান ছিল, আবার কেউ বলছেন অভিনেতা নাকি নিজের ইচ্ছেমতো সমুদ্রের গভীরে গেছিলেন। কেউ বলছেন, শুটিংয়ের প্যাক আপ হয়ে গেছিল আগেই কেউ বলছেন ওই সময় শট চলছিল (ভাইরাল ভিডিওতেও তেমনটাই দেখা গেছে)। প্রযোজনা সংস্থার কর্ণধার লীনা গঙ্গোপাধ্যায় (Leena Gangopadhyay) জানিয়েছেন চিত্রনাট্যে নাকি গভীর সমুদ্রে যাওয়ার মতো কোনও দৃশ্য ছিল না। অথচ ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে সমুদ্রেই শট দিচ্ছেন নায়ক-নায়িকা। কেউ বলছেন রাহুল পড়ে যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁকে উদ্ধার করা হয়, অথচ ময়নাতন্ত্রে রিপোর্ট অনুযায়ী অভিনেতার ফুসফুসে যে পরিমাণ জল এবং বালি ছিল সেটা দীর্ঘক্ষণ সমুদ্রে না পড়ে থাকলে সম্ভব নয়।। ওড়িশা পুলিশ জানিয়েছে এই শুটিংয়ের অনুমতি ছিল না, স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা কেউ কেউ বলছেন পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না। তাহলে দোষ কার? তরতাজা প্রাণ যে এভাবে বেঘোরে চলে গেল তার দায় কে নেবে?
প্রয়াত অভিনেতার সতীর্থরা গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি করেছেন। AICWA-র অভিযোগ, গাফিলতির কারণেই শুটিং করতে গিয়ে সলিল সমাধি রাহুলের। তাই এই ঘটনার ক্ষতিপূরণ হিসেবে অন্তত ১ কোটি টাকা অভিনেতার পরিবারকে দিতে হবে। পাশাপাশি যে চ্যানেলে এই ধারাবাহিক টেলিকাস্ট হয় এবং যে প্রযোজনা সংস্থা এর দায়িত্বে আছেন তাদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগও করছে সর্বভারতীয় সিনে ওয়ার্কার্স সংগঠন। অবিলম্বে প্রযোজনা সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছে তারা। বাংলা এবং ওড়িশা এই দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের কাছেও তদন্তের দাবি তুলেছেন সংগঠনের সদস্যরা।


প্রসঙ্গত এই প্রথম নয় এর আগেও লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টসের (Magic Moments) একাধিক ধারাবাহিকে এভাবেই দুর্ঘটনায় অভিনেতাদের মৃত্যু হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে গোটা বিষয়টি কাকতালীয় মনে হলেও প্রযোজনা সংস্থা কি সত্যি তাই এড়িয়ে যেতে পারেন, প্রশ্ন তুলছেন কলাকুশলীদের একাংশ। সোমবার অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের দাবি তোলার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনের দাবি, “এটা নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং কাঠামোগত ব্যর্থতা। প্রযোজনা সংস্থার গাফিলতিতেই মৃত্যু হয়েছে অভিনেতার। আমাদের সংগঠনের তরফে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে যে, প্রযোজনা সংস্থা এবং চ্যানেল কর্তৃপক্ষ খরচ কমানোর জন্য প্রায়শই শিল্পীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে আপস করে থাকে। ফলত, কর্মী ও শিল্পীদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে। প্রায় প্রতিবছরই ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের সিনেজগতের এহেন দুর্ঘটনা ঘটে। যেখানে অনিরাপদ কাজের পরিবেশের কারণে টেকনিশিয়ান, সাধারণ কর্মী এবং শিল্পীদের প্রাণহানি ঘটে। তবে দুর্ভাগ্যবশত, এই ধরনের ঘটনাগুলো প্রায়শই ধামাচাপা দেওয়া হয় এবং দোষীদের শাস্তির উদাহরণও অত্যন্ত বিরল। সেই প্রেক্ষিতেই রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে দোষীদের কড়া শাস্তির দাবি জানাচ্ছে অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন।”

–

–

–

–

–

–

–
–
