নির্বাচনের এসআইআর প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে হাজার হাজার ফর্ম-৬ জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় চালিয়েছে বিজেপি সোমবার থেকে। সোজা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে (CEO Office) সেই ফর্ম জমা করা নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবারও ফর্ম (Form-6) জমা নিয়ে যে অশান্তির হয়েছে তার জেরে কমিশন দফতরের বাইরে ১৪৪ ধারা লাগু করেছে কলকাতা পুলিশ। তবে এই সব ফর্ম সম্পর্কে কোনও খবর রাখা তাঁর কাজ নয়, মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি করলেন সিইও মনোজ আগরওয়াল (CEO Manoj Agarwal)।

যে বিপুল পরিমাণ ফর্ম এসে পৌঁছেছে তা নিয়ে কিছু জানেন না দাবি করে মনোজ এদিন জানান, আমি শুনেছি একগাদা ফর্ম-৬ জমা হয়েছে। কোনও ফর্ম এলে তা দফতরের (CEO Office) ডাক সেকশনে রিসিভ করতে হয়। সেখান থেকে ভাগ হয়ে বিভিন্ন দফতরে যায়। আমার জানা ছিল না এত ফর্ম-৬ এসেছে এখানে।

তাঁর দফতরের কাজ সম্পর্কে স্বচ্ছতার দাবি করেন এদিন সিইও মনোজ আগরওয়াল। তাঁর কথায়, নির্বাচন কমিশনের দফতরে এমন কোনও সফটওয়্যার নেই যে সেখান থেকে একজনও ভোটার যুক্ত বা বিযুক্ত করা যাবে। কোনওদিনও সেরকম কোনও ব্যবস্থা ছিল না। আমাদের কাছে কোনও অভিযোগ যদি আসে ভুয়ো ভোটার সংক্রান্ত আমরা ইআরও-দের (ERO) দিয়ে যাচাই করি। আমাদের এক্তিয়ার সুপারভাইজ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্দেশ দেওয়া ডিইও-দের ও গোটা রাজ্যের কমিশনের সম্পূর্ণ ব্যবস্থাকে।

তবে এদিন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক স্পষ্ট করে দেন, মঙ্গলবার তাঁর দফতর বা রাজ্যের অন্য যে কোনও ডিইও দফতরে কোনও ফর্ম-৬-এর (Form-6) আবেদন হলে তা আদৌ যাচাইয়ের পরে ভোটার তালিকায় (voter list) যুক্ত হবে না। তিনি জানান, এখন বছরে চারবার নতুন ভোটার হওয়া যায়। যে কোনও নির্বাচন কমিশনের দফতরে ফর্ম-৬ গ্রহণ করা যায়। মনোনয়নের ১০ দিন আগে পর্যন্ত যে ফর্ম আসবে তার নিষ্পত্তি হবে। নতুন ইলেক্টোরাল রোলে সেটা আসবে না। ৬ এপ্রিলের ১০ দিন আগে ২৭ মার্চ পর্যন্ত যে ফর্ম আসবে সেটার নিষ্পত্তি হলে বা তাঁরা যোগ্য হলে, সেটা ৬ এপ্রিলের ইলেক্টোরাল রোলে আসবে। দ্বিতীয় দফার ৯ তারিখের যে ইলেক্টোরাল রোল তার জন্য ৩০ মার্চ পর্যন্ত যে ফর্ম জমা হবে সেগুলির নিষ্পত্তি হলে তা রোলে যুক্ত হবে। আজ কোনও ফর্ম এলে তা নিষ্পত্তি হলে তা কোনও ভোটার তালিকায় (voter list) যুক্ত হবে না।

আরও পড়ুন : থলে ভর্তি ফর্ম 6 নিয়ে ECO-তে! ভিডিও দেখিয়ে গর্জে উঠল তৃণমূল

এমনকি সরাসরি সিইও দফতর ফর্ম-৬-এর নিষ্পত্তি করে না বলে তিনি দাবি করেন। গোটা প্রক্রিয়াই সেই ইআরও দফতরগুলিতে গিয়ে যাচাই হতে হয়, এমনটা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন সিইও মনোজ আগরওয়াল। তিনি দাবি করেন, সিইও দফতরে যে কোনও মানুষ যে কোনও নথি জমা করতে পারেন। তা ডাক বিভাগে জমা হওয়ার পরে দফতরের ১০টি দফতরে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ভাগ হয়ে যায়।

–

–

–

–
