ছাব্বিশের নির্বাচনে ফালাকাটা বিধানসভায় বিজেপি কচুকাটা হবে! বুধবার ফালাকাটার মিল রোড গ্রাউন্ডে দলীয় প্রার্থী সুভাষচন্দ্র রায়ের সমর্থনে আয়োজিত সভা থেকে বিজেপিকে এভাবেই আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। একই সঙ্গে আগামী নির্বাচনে এই কেন্দ্রে জয়ের ব্যবধানও বেঁধে দিলেন তিনি। অভিষেকের দাবি, গতবার সামান্য ব্যবধানে হার হলেও এবার ফালাকাটায় ঘাসফুল শিবিরকে অন্তত ২৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী করতে হবে।

বুধবারের সভায় আগাগোড়া আক্রমণাত্মক মেজাজে পাওয়া গিয়েছে অভিষেককে। উত্তরবঙ্গের এই জনপদ থেকে বিজেপিকে ‘ট্রিপল ইঞ্জিন’ সরকার বলে কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর কথায়, ফালাকাটায় পাঁচ বছর ধরে বিজেপির বিধায়ক রয়েছে, সাত বছর ধরে সাংসদ এবং কেন্দ্রে ১২ বছরের বিজেপি সরকার। সব মিলিয়ে এখানে ট্রিপল ইঞ্জিন চলছে। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে সাধারণ মানুষের জন্য কী উন্নয়ন হয়েছে, সেই প্রশ্ন তুলে বিজেপিকে রিপোর্ট কার্ড প্রকাশের চ্যালেঞ্জ জানান তিনি। অভিষেকের হুঁশিয়ারি, “আগে চোর-ডাকাতেরা অপরাধ করে জেলে যেত, আর এখন অপরাধ করে বিজেপিতে যায়। এদের পায়ের নখ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত সবটাই দু’নম্বরি।”

বিজেপি যখন বিভাজনের রাজনীতি করছে, তখন তৃণমূল মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে কাজ করছে বলে দাবি করেন অভিষেক। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১১ ও ২০১৬ সালে গোটা রাজ্যের পাশাপাশি ফালাকাটাতেও যে উন্নয়নের ধারা শুরু হয়েছিল, তা বজায় রাখতেই তৃণমূলের জয় প্রয়োজন। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে মাত্র সাড়ে তিন হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল তৃণমূল। তবে এদিন মাঠের ভিড় দেখে আত্মবিশ্বাসের সুর ধরা পড়ে তাঁর গলায়। তিনি বলেন, “এই মাঠে যাঁরা উপস্থিত আছেন, তাঁরাই যদি ঠিক করে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন, তবে বিজেপির খেলা ওখানেই শেষ হয়ে যাবে।”

পরাজিত হওয়ার পরেও ফালাকাটায় উন্নয়নের ধারা থমকে যায়নি বলে এদিন দাবি করেন অভিষেক। ২০২২ সালে ফালাকাটাকে পুরসভা হিসেবে ঘোষণা করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, বর্তমানে পুরসভার স্থায়ী পরিকাঠামো নেই। কিন্তু ছাব্বিশে তৃণমূল জিতলেই জেলা পরিষদের মাধ্যমে স্থায়ী ভবন ও পরিকাঠামো তৈরি করে দেওয়া হবে। এছাড়াও সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল, স্টেডিয়াম ও দমকল কেন্দ্রের মতো পরিষেবা মানুষ পাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নবনগর গঙ্গামঙ্গল ঘাটে মুজনাই নদীর উপর ২০০ মিটার দীর্ঘ সেতু তৈরির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন অভিষেক। তাঁর আশ্বাস, চতুর্থবার তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এলেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই কাজ সম্পন্ন করা হবে। শেষ বেলায় দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে তিনি বলেন, বিজেপি চায় মানুষের চোখে জল দেখতে, আর তৃণমূল চায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে। সেই লক্ষ্যেই একজোট হয়ে লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন- আগুন কটক হাই কোর্টে! জ্বলন্ত পেট্রোল ছুঁড়ে গ্রেফতার মহিলা

_

_

_

_
_
_
