উচ্চ মাধ্যমিকে সেমিস্টার সিস্টেম বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে তৈরি হওয়া যাবতীয় জল্পনা ও সংশয় উড়িয়ে দিল উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। ২০২৭ সাল থেকে সেমিস্টার ব্যবস্থা উঠে যাচ্ছে এবং পরীক্ষার্থীরা আবার আগের মতো পুরনো সিলেবাসে পরীক্ষা দিতে পারবে— এমন খবর সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। বৃহস্পতিবার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই খবরকে সম্পূর্ণ ‘ভুঁয়ো’ বলে জানিয়ে দিলেন সংসদ সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। (সংশোধনী: মূল তথ্যে পার্থ কর্মকার নামটির উল্লেখ থাকলেও বর্তমানে সংসদের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের পক্ষ থেকে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে)।

সংসদ সভাপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সেমিস্টার ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা সংসদের নেই। যে খবরটি রটেছে, তার সঙ্গে সংসদের কোনও সম্পর্ক নেই এবং পরীক্ষার্থীরা যেন এই ধরণের কোনও তথ্যে কান না দেয়। চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই একাদশ শ্রেণিতে নতুন পাঠ্যক্রম ও সেমিস্টার পদ্ধতি চালু হয়েছে। সেই নিয়ম মেনেই পঠনপাঠন ও পরীক্ষা প্রক্রিয়া চলবে।

উল্লেখ্য, এই বছর থেকেই প্রথম সেমিস্টার সিস্টেমে পরীক্ষা দিচ্ছে পরীক্ষার্থীরা। উচ্চ মাধ্যমিকের পুরো শিক্ষাবর্ষকে মোট ৪টি সেমেস্টারে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে একাদশ শ্রেণিতে দুটি এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে আরও দুটি সেমেস্টার হবে। সংসদের নিয়ম অনুযায়ী, একাদশ শ্রেণির দুটি সেমেস্টারে অন্তত ৩০ শতাংশ নম্বর পেলে তবেই সেই পরীক্ষার্থী দ্বাদশ শ্রেণিতে ওঠার সুযোগ পাবে।

পরীক্ষার ধরণ প্রসঙ্গে সংসদ আগেই জানিয়েছিল যে, প্রথম ও তৃতীয় সেমেস্টারের পরীক্ষা হবে মাল্টিপল চয়েস কোয়েশ্চেন বা এমসিকিউ পদ্ধতিতে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় এবং চতুর্থ সেমেস্টারে থাকবে ছোট প্রশ্ন এবং ব্যাখ্যামূলক বড় প্রশ্ন। ২০২৬ সালে এই নতুন পদ্ধতিতে প্রথম উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা আয়োজিত হবে। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর শুরু হওয়া এই আধুনিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিয়ে কোনও রকম অনিশ্চয়তা নেই বলেই আশ্বস্ত করেছে শিক্ষা সংসদ। অভিভাবকদের একাংশের মতে, মাঝপথে নিয়ম বদলের খবর ছড়িয়ে পড়ায় পড়ুয়ারা মানসিক চাপে পড়ে গিয়েছিল, সংসদের এই দ্রুত হস্তক্ষেপে সেই উদ্বেগ আপাতত দূর হল।

আরও পড়ুন- কমিশনের নির্দেশে রদবদল! সরলেন মালদহের কমিশনার, দায়িত্বে গুলাম আলি আনসারি

_

_

_

_
_
_

