মুখে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের বুলি, অথচ কাজের বেলায় চরম পক্ষপাতিত্ব! রাজ্যে নির্বাচন শুরুর আগেই কমিশনের নিরপেক্ষতাকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিতর্কে জড়ালেন পানিহাটির সেক্টর অফিসার অতনু চক্রবর্তী। অভিযোগ, নিরপেক্ষতার মুখোশ খুলে ফেলে প্রকাশ্যেই বিজেপির হয়ে ঝাণ্ডা ও প্রচার সামগ্রী গোছানোর কাজ করছিলেন তিনি। এই মারাত্মক ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই তীব্র অস্বস্তিতে পড়ে তড়িঘড়ি ওই আধিকারিককে সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। তবে এই ঘটনা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, নির্বাচন কি সত্যিই ‘অবাধ’ হচ্ছে?

ঘটনার প্রেক্ষাপট বেশ চাঞ্চল্যকর। শুক্রবার তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আনেন। সেখানে দেখা যায়, একটি ঘরে বিজেপির পতাকা এবং ব্যানার তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে। আর সেই ‘তৈরি’র মিছিলে সক্রিয়ভাবে বসে আছেন পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের সেক্টর অফিসার অতনু চক্রবর্তী। যিনি পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক এবং যাঁর কাঁধে নির্বাচন পরিচালনার মতো সংবেদনশীল দায়িত্ব ছিল। একজন সরকারি আধিকারিক কীভাবে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের দফতরে বসে দালালি করতে পারেন, তা নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল শিবির। কমিশনে জমা দেওয়া অভিযোগে তৃণমূলের তরফে ডেরেক ও’ব্রায়েন সাফ জানিয়েছেন, অতনু চক্রবর্তী আদর্শ আচরণবিধি (MCC) এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের সরাসরি অমর্যাদা করেছেন। একজন সেক্টর অফিসারের কাজ যেখানে সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সেখানে তিনি নিজেই যদি একটি দলের কর্মীর মতো কাজ করেন, তবে সাধারণ মানুষ ভরসা পাবেন কোথায়? তৃণমূলের তোপ, রাজ্য জুড়ে পুলিশ অফিসারদের দেদার বদলি করে কি এভাবেই ‘বিজেপি ঘনিষ্ঠ’ আধিকারিকদের বসাতে চাইছে কমিশন?
চাপের মুখে পড়ে অবশ্য শেষরক্ষা হয়নি ওই আধিকারিকের। শনিবার পানিহাটির রিটার্নিং অফিসার জেলাশাসককে চিঠি লিখে জানিয়েছেন, অতনু চক্রবর্তীকে তাঁর দায়িত্ব থেকে অবিলম্বে বহিষ্কার করা হয়েছে। কেন তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বা কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার জন্য ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে ‘শো-কজ’ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন- সাংসদ থেকে প্রার্থী: ভোটের ময়দানে তৃণমূলের ৪০ ‘স্টার ক্যাম্পেনার’

_

_

_

_
_
_
_
