কোচবিহারের রাসমেলার মাঠ থেকে তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে প্রধানমন্ত্রীর সেই আক্রমণের পরেই পাল্টা জবাব দিল তৃণমূল কংগ্রেস। ‘ইশতেহার’ শব্দের ব্যুৎপত্তি থেকে শুরু করে বিজেপির ‘ওয়াশিং মেশিন’ রাজনীতি— একাধিক ইস্যুতে মোদিকে বিঁধলেন রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও শশী পাঁজা।

তৃণমূলের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘ইশতেহার’ শব্দটি ব্যবহার করা নিয়ে ব্যঙ্গ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তার জবাবে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, “প্রধানমন্ত্রী হয়তো জানেন না, ইশতেহার কোনো উর্দু শব্দ নয়, এটি একটি আরবি শব্দ যা এখন বাংলা ভাষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গিয়েছে।” মোদিকে পাল্টা কটাক্ষ করে ব্রাত্য মনে করিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই হামেশাই ‘আদালত’ শব্দটি ব্যবহার করেন, যা আদতে একটি আরবি শব্দ। ব্রাত্যের কথায়, “একটি জীবন্ত ভাষা সবসময় অন্য ভাষার শব্দ গ্রহণ করে সমৃদ্ধ হয়। এমনকি ‘ম্যানিফেস্টো’ শব্দটিও ইতালীয়। আমরা বাংলা, ইংরেজি (Manifesto), হিন্দি (Ghoshnaputra) এবং নেপালি ভাষায় ইশতেহার প্রকাশ করেছি যাতে রাজ্যের সব মানুষ আমাদের পরিকল্পনা বুঝতে পারেন।”

অন্য দিকে, প্রধানমন্ত্রীর ‘গণতন্ত্র’ রক্ষার মন্তব্যকে ‘ভণ্ডামির একশেষ’ বলে তোপ দাগেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে ভোটার তালিকা থেকে ৬৩ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, “এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার জন্য যখন আপনি কমিশনের প্রশংসা করছেন, তার মানে ওই প্রক্রিয়ায় মৃত ২০০ মানুষের রক্তকেও আপনি সমর্থন করছেন।”

নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগকে কটাক্ষ করে মন্ত্রী শশী পাঁজা প্রশ্ন তোলেন, “প্রোজ্বল রেভান্না, ব্রিজভূষণ শরণ সিং বা কুলদীপ সেঙ্গারের মতো অভিযুক্ত বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে কেন কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না? দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ২৩ জন বিরোধী নেতা ‘বিজেপি ওয়াশিং মেশিনে’ ঢোকামাত্রই কেন ক্লিনচিট পেয়ে গেলেন?” এমনকি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিতর্কিত জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে মোদীর কথিত ঘনিষ্ঠতা নিয়েও ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন তিনি। মালদহের মোথাবাড়ির সাম্প্রতিক গণ্ডগোলের প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূলের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দিয়েছেন বলেই প্রধানমন্ত্রী তড়িঘড়ি এসে পাল্টা ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করছেন। শশী পাঁজার অভিযোগ, “বিজেপি রাজ্যে অরাজকতা তৈরি করে পিছনের দরজা দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে চাইছে। সেই কারণেই এআইএমআইএম (AIMIM) ও আইএসএফ (ISF)-কে টাকা দিয়ে প্ররোচনামূলক ভাষণ দেওয়ানো হচ্ছে।”

আরও পড়ুন- IPL: বরুণ-নারিনেই আস্থা, গ্রিনের বোলিংয়ের জন্য কেকেআর তাকিয়ে ডনের দেশের দিকেই

_

_
_

_
_

_
