বাবা বাম জমানার বিতর্কিত নেতা অনিল বসু (Anil Basu)। এবার তাঁর ছেলে সৌম্য বসুকে এবার দেখা গেল বিজেপির সভায় (BJP)। ছাত্র জীবনে বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এখন তিনি রাম শিবিরে। সোমবার হুগলির পাঁচ বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা ছিল। সেই উপলক্ষ্যে চুঁচুড়া ঘড়ির মোড়ে বিজেপির এক জনসভা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। সেখানেই প্রয়াত বাম নেতার পুত্র সৌম্যকে দেখা যায়। সেই সভা থেকেই বর্তমান বাম রাজনীতির বিরুদ্ধে সুর চড়ান তিনি।

সোমবার চুঁচুড়ায় ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়েই ক্ষান্ত হলেন না। সিপিএমের সমালোচনা করে তিনি জানান, “সেই সিপিএম আর নেই। তাই বিজেপি করছি।” বর্তমান বাম নেতাদের ‘এঁরা সবাই এলিট ক্লাসের প্রতিনিধি’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। সৌম্য জানিয়েছেন, জ্যোতি বসু, অনিল বিশ্বাস, সুভাষ চক্রবর্তীদের বামপন্থার সঙ্গে এখনকার রাজ্য বামপন্থীদের বিস্তর ফারাক। যদিও তৎকালীন সিপিএম জমানায় বহুবার বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছে সৌম্যের বাবা অনিল বসুকে। আরামবাগ থেকে ছ’বারের সাংসদ হলেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল বিস্তর। ২০০৪ সালে ভোটে জিততে সাধরন মানুষকে ভয় দেখানো এবং ব্যাপক হারে ছাপ্পার অভিযোগ ওঠে। বাম জমানার শেষের দিকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তথা তৎকালীন বিরোধী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কুরুচিকর মন্তব্য করেন। যার জেরে চরম অস্বস্তিতে পড়তে হয় তৎকালীন শাসকদলকে। মুখ বাঁচাতে কড়া বিবৃতি দিয়ে ভর্ৎসনা করেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। পরে সাংবাদিক বৈঠক করে সিপিএমের তৎকালীন রাজ্য সম্পাদক বিমান বসুর বিরুদ্ধে ফের কুরুচিকর কথা বলেন। তখন দল থেকে বহিষ্কার করা হয় অনিল বসুকে। আরও পড়ুন: গেট ভেঙে দিল্লি বিধানসভায় গাড়ি, স্পিকারের গাড়িতে কালি মুখ ঢাকা অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির

রাজনৈতিক অবস্থান বদলের বিষয়ে সৌম্য বলেন, “বাবা সাংসদ বা নেতা ছিলেন বলে ছেলেকেও সেই দল করতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। প্রত্যেকেরই নিজস্ব মতামত রয়েছে।” তিনি আরও জানান, বিজেপির আদর্শ ও ‘দেশভক্তির রাজনীতি’ তাঁকে আকৃষ্ট করেছে এবং তিনি দলের প্রার্থীদের জেতাতে কাজ করবেন।

–

–

–

–

–

–
–
–
