বিজেপিকে খুশি করতে বিহার-উত্তরপ্রদেশ থেকে ভোটার আনা হচ্ছে বাংলায়! আর সুপরিকল্পিত চক্রান্তে বাংলার বৈধ ভোটারদের নাম কেটে ভোটাধিকার হরণ করছে কমিশন! প্রথম দফার নির্বাচনের হাতেগোনা কয়েকদিন আগেও এসআইআর প্রক্রিয়ায় একাধিক অসঙ্গতি নিয়ে সোমবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে ফের একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলল তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। এদিন তৃণমূলের তরফে সিইও মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করে তাঁর হাতে ডেপুটেশন তুলে দেন অরূপ বিশ্বাস, ডাঃ শশী পাঁজা এবং বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। তৃণমূলের সাফ দাবি, বাংলার ভোটার তালিকায় ‘বহিরাগত’ ভোটার ঢোকানোর জন্য সিইও অফিসে কত হাজার ফর্ম-৬ জমা পড়েছে কিংবা বিভিন্ন জেলায় কত ফর্ম-৬, ফর্ম-৭ জমা পড়ছে— তার স্পষ্ট কোনও হিসেব কেন প্রকাশ করছে না নির্বাচন কমিশন? কেন এত লুকোচুরি?

সিইও দফতর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শশী পাঁজা বলেন, কমিশন এখন কেবল প্রভুর সন্তুষ্টি অর্জনেই ব্যস্ত। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বা অভাব-অভিযোগ তাঁদের কাছে নগণ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, একদিকে যেমন ভোটার তালিকা নিয়ে কারচুপি হচ্ছে, অন্যদিকে কমিশনের নিরপেক্ষতাও প্রশ্নের মুখে। কয়েকদিন আগে সিইও দফতরের সামনে বিক্ষোভের ঘটনায় তৃণমূলের দুই কাউন্সিলরকে পুলিশি জেরার মুখে পড়তে হলেও বিজেপির উস্কানিদাতারা কেন ছাড় পাচ্ছেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
বিজেপির কয়েকজন নেতার প্ররোচনামূলক ও কুরুচিকর মন্তব্যের ভিডিও ফুটেজ তুলে ধরে তৃণমূলের দাবি, প্রকাশ্য সভায় দুষ্কৃতীদের পিটিয়ে মারার হুমকি দেওয়া হলেও কমিশন কোনও পদক্ষেপ করছে না। অরূপ বিশ্বাসের কটাক্ষ, কমিশন কি কানে কালা আর চোখে ঠুলি দিয়ে বসে আছে? বিজেপি ছাড়া তারা আর কারও কথা শুনতে পাচ্ছে না। ভোটের আগে এই ‘একতরফা’ আচরণের প্রতিবাদে তৃণমূল যে বড়সড় আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে, এদিনের ডেপুটেশন তারই ইঙ্গিত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। কমিশনের পক্ষ থেকে অবশ্য এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
আরও পড়ুন- ভোটার তালিকায় জটিলতা মেটাতে তৎপর কমিশন, সিইও দফতরে বিশেষ দায়িত্বে বিভূ গোয়েল
_
_

_

_

_

_

_

