রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতেই তৃণমূলের (TMC) অন্দরে এবার ক্ষোভের আবহ। দুর্নীতি, তোলাবাজি ও বোমা বিস্ফোরণের মতো গুরুতর অভিযোগে প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু থেকে প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লা ও সুজয় হাজরা, স্বরূপ বিশ্বাসের মতো তৃণমূল নেতারা একের পর এক গ্রেফতার। রাজ্য সরকারে এই পদক্ষেপে প্রকাশ্যেই ‘উচ্ছ্বাস’ প্রকাশ করলেন দলের যুব নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য (Debangshu Bhattachariya)। নিজের দলের নেতাদের এই পরিণতিতে রীতিমতো ‘আনন্দ’ প্রকাশ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি কড়া পোস্ট করেছেন ছাব্বিশের নির্বাচনে চুঁচুড়ার এই পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী। আরও পড়ুন: ১.৭৭ লক্ষ কোটির ঋণ! হিমন্ত সরকারের কীর্তিতে উদ্বিগ্ন আদালত

কারও নাম না করে আঞ্চলিক দুর্নীতিগ্রস্থ নেতাদের ‘ছোট ছোট মুখ্যমন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ করে দেবাংশু লেখেন, “একেকটা জেলাকে বাপের সম্পত্তি ভেবে বসেছিল, আঙুলের ডগায় পুলিশকে নাচাতো! মানুষের বুকের উপর পা দিয়ে সাম্রাজ্য গঠন করেছিল। ছোট ছোট মুখ্যমন্ত্রী ভেবে নিয়েছিল নিজেদের… জেলায় জেলায় দলের ভরাডুবির হোতা ও হেতু এঁরাই!” রাজনৈতিক হিংসার কারণে কিছু গ্রেফতারি হলেও, এর ফলে দলের ভেতরের আসল অপরাধীরা চিহ্নিত হচ্ছে যা এক প্রকার ‘ব্লেসিং ইন ডিসগাইজ’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আদতে এই ধরনের নেতাদের জন্য গোটা রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি মানুষ বিরূপ হয়েছেন, এমনটাই দেবাংশুর কথায় ইঙ্গিত। দেবাংশু লেখেন, রাজনৈতিক হিংসা চরিতার্থ করতে কিছু কিছু গ্রেফতারি হলেও ফাঁকতালে কয়েকটা প্রকৃত চোর-ছ্যাচোর-হুমকিবাজ ডাকাতও ধরা পড়ছে। যেটা খুবই ভালো লক্ষণ।

সেই সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্যও কিছু অনুরোধ রেখেছেন দেবাংশু। তাঁর কথায়, সৎ ভাবে যারা রাজনীতি করেছে, গায়ে কালির দাগ লাগতে দেয়নি, তারা এসব কিছু বদমাইশের দায়-দায়িত্ব আজ পরাজয়ের পরেও কাঁধে নিতে যাবে কেন? দল ক্ষমতায় থাকলে লোভী-বদমাইশদের ভিড় বাড়ে, তারা চিহ্নিত হোক; অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে দলও পার্মানেন্টলি ঝেড়ে ফেলুক এদের।

–

–

–

–

–
–
