ফেঁসে গিয়ে এখন এআই-এর দোহাই দিয়ে পিঠ বাঁচাতে চাইছেন হুমায়ুন কবীর। কিন্তু তাঁর এই ‘ডিলের’ ভিডিও নিয়ে সাফাই যে ধোপে টিকবে না তা স্পষ্ট করে দিল তৃণমূল। বৃহস্পতিবার ব্রাত্য বসু ও শশী পাঁজা এই ভিডিও-কাণ্ডে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব তলব করেছেন। ব্রাত্য বলেন, তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটি স্টিং অপারেশনের ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে বাংলায় মুসলিম ভোট ভাগ করার জন্য ১০০০ কোটি টাকার ডিল হয়েছে। ওই ভিডিওতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং সরাসরি পিএমও-র যুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু মোদি স্বভাবসিদ্ধ ঔদ্ধত্যে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন।

ব্রাত্য বসু বলেন, যোগ রয়েছে খোদ প্রধানমন্ত্রীর দফতরের। আমরা আশা করেছিলাম তা নিয়ে মুখ খুলবেন মোদি। কিন্তু একটি বাক্যও শোনা গেল তাঁর মুখে। এবার পিএমও-র নম্বর টু অমিত শাহের কাছে আমরা জবাব চাই। অমিত শাহ উত্তর না দিলে ধরে নিতে হবে ভিডিওর পুরোটাই সত্যি। শশী পাঁজা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় আগাগোড়া প্রতারণা করে গেলেন বাংলার মানুষের সঙ্গে। এত মিথ্যের পর আবার গ্যারান্টি দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী? বোঝাই যাচ্ছে বিজেপির গ্যারান্টি আসলে জুমলা, প্রতারণা। কোনওটাই বাস্তবায়িত হবে না। কেন্দ্রকে বিঁধে ব্রাত্য বসু বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসাব নেওয়ার কথা বলছেন, আমরাও হিসাব চাই। কিন্তু আমাদের হিসাব অন্য। আমরা চাই, বাংলার আটকে রাখা ২ লক্ষ কোটি টাকার হিসাব। ১০০ দিনের কাজ, মিড-ডে মিল, জল জীবন মিশনের টাকা কেন আটকে রাখা হয়েছে, তার হিসেব চাই।

ব্রাত্যর কথায়, আপনারা বাঙালিকে খাটো করার জন্য বাংলাকে বোমার কারখানা বলছেন। মণিপুরে যে বোমা ফাটছে, তা কি গুজরাত বা উত্তরপ্রদেশের কারখানায় তৈরি? প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে লালকেল্লায় যে বোমা ফাটল, তা কোথায় তৈরি হয়েছিল? আরএসএসের সদর দফতর নাগপুরের কাছে সম্প্রতি একটি কারখানায় বিস্ফোরণে ১৮ জনের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে তাঁর প্রশ্ন, সেগুলি কি মহারাষ্ট্র বা গুজরাতের কারখানায় তৈরি? বিজেপি আগে লালকেল্লা ও নাগপুরের হিসেব দিন। তিনি বলেন, ঔরঙ্গজেব এবং হিটলার দুজনেই বিশুদ্ধ নিরামিষাশী ছিলেন। দু’জন নিরামিষাশী শাসকই একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছিলেন, ছিলেন চূড়ান্ত যুদ্ধবাদ । মোদির কথাবার্তাও ওই দুই স্বৈরাচারী শাসকের মতোই শোনাচ্ছে।

_

_

_

_

_

_
_
