বাংলার ভোটার তালিকা থেকে যেভাবে ন্যায্য ভোটারদের ধাপে ধাপে বাদ দিয়ে নির্বাচন সংঘটিত করার পথে নির্বাচন কমিশন, তার মুখোশ খুলতে রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে দিল্লি পর্যন্ত গিয়েছেন দেশ বাঁচাও গণমঞ্চের সদস্যরা। কীভাবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) ষড়যন্ত্রের ফলে একদিকে বাংলার মানুষ সাংবিধানিক অধিকার হারাচ্ছেন, অন্যদিকে ধাপে ধাপে লাইন দিয়ে সম্মানহানির মুখে পড়ছেন, তা তুলে ধরেছেন গণমঞ্চের (Desh Banchao Gano Mancho) সদস্যরা। শুক্রবার দক্ষিণ কলকাতার লেক মার্কেটে তেমনই একটি প্রচার সভার আয়োজন করেন তাঁরা।

দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ একটি নাগরিক সংগঠন হিসেবে সদা সক্রিয়। প্রেস ক্লাব, কলকাতা ও বিভিন্ন জেলায় পথসভা করে, এমনকি দিল্লিতে গিয়েও বিজেপি-র অরাজকতা, নির্বাচন কমিশনের তাবেদারি এবং দেশব্যাপী এসআইআর-এর বিরুদ্ধে সোচ্চারে বিরোধিতা করে গিয়েছে। শুক্রবারও লেক মার্কেট অঞ্চলে সঙ্গীত শিল্পী সৈকত মিত্রের গান দিয়ে প্রতিবাদ শুরু হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন চিত্র পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী, সঙ্গীত শিল্পী প্রণতি ঠাকুর, বিশিষ্ট চিকিৎসক দেবাশিস বক্সি, চিকিৎসক দীপঙ্কর দে, প্রবীণ সাংবাদিক রন্তিদেব সেনগুপ্ত, সমাজকর্মী ও নাট্যকার অরূপ শঙ্কর মৈত্র, সমাজকর্মী অনন্যা চক্রবর্তী, অভিনেতা রাহুল চক্রবর্তী, আবৃত্তিকার চিত্রা বসু, সমাজকর্মী কল্যাণ সেনগুপ্ত, বর্ণালী মুখার্জী, সঙ্গীত শিল্পী অমিত কালি, বিশিষ্ট অধ্যাপিকা সৈয়দ তানভীর নাসরীন, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুমন ভট্টাচার্য, পরিচালক সুদেষ্ণা রায়, প্রদীপ্ত গুহ ঠাকুরতা, নাজমুল হক, সুপ্রিয় সেনগুপ্ত প্রমুখ। এই সমগ্র সভাটি সুষ্ঠুভাবে সঞ্চালনা করেন সুশান রায়। সঙ্গীত পরিবেশন করেন অমিত কালি এবং প্রতিবাদী কবিতা শোনান চিত্রা বসু।

আরও পড়ুন : ভোটে নির্বিঘ্নে যান চলাচল করাতে বাস চালক ও খালাসিদের জন্য নয়া ব্যবস্থা কমিশনের

সার-এ পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৯১ লক্ষ নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা (voter list) থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’র (logical discrepancy) আড়ালে সুপরিকল্পিতভাবে একটি বিশেষ সম্প্রদায় ও মহিলাদের নাম বাদ দিচ্ছে ভোটে জেতার জন্য। দেশ বাঁচাও গণমঞ্চের সদস্যদের বক্তব্য, কোনও নিবিড় সংশোধন নয়, ছলে বলে কৌশলে আগামী বিধানসভা ভোট জেতার জন্যই এই ছলনার আশ্রয় নেওয়া। দেশ বাঁচাও গণমঞ্চের সদস্যরা বার্তা দিয়েছেন সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে যে, একটি ভোটও বিজেপিকে ভোট দেওয়া চলবে না। বিজেপিকে হারাতে পারবে এমন কোনও দলকে ভোট দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

–

–

–

–

–
–
