ভোট প্রচারে এসে উত্তরপ্রদেশের বুলডোজার নীতি বাংলায় চালুর হুমকি দেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)। রবিবার তাঁর এই মন্তব্যের পর সোমবার দলীয় প্রার্থীর হয়ে ভোট প্রচারে গিয়ে নাম না করে যোগীকে ধুয়ে দিলেন তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সিউড়ি ইরিগেশন কলোনির মাঠের জনসভা থেকে তিনি বলেন, “বুলডোজার-রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না, ভালবাসার নীতিতে বিশ্বাস করি”।

এদিন সিউড়ির জনসভা থেকে একের পর এক ইস্যুতে বিজেপিকে (BJP) নিশানা করেন তৃণমূল সভানেত্রী। তাঁর কথায়, ”আমাকে ধর্ম শেখাবেন না। আমার ধর্ম মানবধর্ম। আমরা মানবতায় বিশ্বাসী। আমায় ধর্ম শেখাতে আসতে হবে না। এদের ধর্ম মানে বিষবৃক্ষ। মানুষের মাথায় বিষ ঢালা এদের ধর্ম! কিছু আরএসএসের নেতা আছে। খেয়েদেয়ে হোদল কুতকুত হচ্ছে। নানুরে ১১ জন তফসিলি জাতির মানুষকে খুন করেছিল। আমার এক কর্মী এসে বলল ওদের মৃতদেহে দেওয়ার জন্য একটা সাদা চাদরও ছিল না। তখন ভেবেছিলাম সমব্যথীর কথা। বাংলার ইতিহাস বদলে দিতে চাইছে বিজেপি।” ”ছাব্বিশের নির্বাচনে ২২৬ এর বেশি আসন পাবে তৃণমূল” আত্মবিশ্বাসী মমতা। বলেন, ”উজ্জ্বল প্রার্থী নয় এখানে। প্রার্থী আমি।”

আদিত্যনাথের মন্তব্যের পাল্টা তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ”কাল একজন বলেছেন, উত্তরপ্রদেশের মতো এখানে বুলডোজ়ার চলবে। মানেটা কী? আমি বুলডোজার-রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। ভালবাসার নীতিতে বিশ্বাস করি।”

এসআইআরকে ‘বিগ স্ক্যাম’ বলে মন্তব্য করে মমতা (Mamata Banerjee) বলেন, ”এত বড় জুমলা এর আগে হয়নি। ভোটার কাটার ষড়যন্ত্র। মাদার টেরেসার সংস্থার থেকেও নাম বাদ দিয়ে দিয়েছে। অমর্ত্য সেনকে তাঁর জমি থেকে তাড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। আমি এসে তাঁর জমির অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছি। কেউ বিজেপিকে ভোট দেবেন না। তৃণমূলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছো? তোমার নেতারা হলদিয়া বন্দর থেকে কত টাকা তোলে? কত টাকা যায় দিল্লি? সৌজন্যের খাতিরে আর বলছি না। ইশারাই কাফি… বুঝে নাও। মোদিবাবুকে জিজ্ঞাসা করুন, কর্মসংস্থানের কী হল। আপনারও তো ১২ বছর হল। ২ কোটি চাকরি কোথায় গেল? আর আমদের প্রশ্ন? আমরা শূন্যপদ পূরণ করতে গেলেই কোর্টে কেস দেয়। যাতে চাকরিগুলি আটকে যায়। এখন চাকরির কথা! এ সব ছলনা আর বাংলার মানুষের সঙ্গে কর না। বিজেপি দেবে চাকরি? রেলে গ্যাংমান নিয়েছে? সেনায় পদ খালি। তার পরেও বলছে চাকরি দেবে! চাকরি দেব আমরা।”

বাংলায় কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, ”দেউচা পাঁচামিতে ৩২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। ২ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। ভোটের প্রতিশ্রুতিতে ভাঁওতা দিই না। আগেরবার নির্বাচনে বলেছিলাম লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেব। ৫০০টাকা দিয়ে শুরু করেছিলাম। বিহারে ভোটের আগে আট হাজার টাকা দিয়ে পরে ফেরত নিচ্ছে। আমি ভিডিও দেখাতে পারি। তিন হাজার দেবে বলছে। কখনও এক হাজার টাকা দিয়েছ? বিনা যুদ্ধে কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়া যাবে না।”
আরও খবর: কমিশনের বদলিতে ১৪ বছর পর মহিলা গোয়েন্দাপ্রধান

জনগণকে সতর্ক করে তৃণমূল সভানেত্রী বলেন, ”বিজেপির কাছ থেকে টাকা নেবেন না। ভুল করবেন না। আমার কাজ আপনাদের সতর্ক করা। অ্যাকাউন্ট বানিয়ে টাকা দেবে বলে কালোটাকা দিয়ে দেবে। তারপর ইডি-সিবিআইয়ের মামলা করবে। জোট বেঁধে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। যতই করো হামলা হবে SIR-র বদলা, NRC-র বদলা।”

–

–

–
–

