ক্লাসরুমের দায়িত্ব সামলে এবার ভোটের (2026 West Bengal Election) ময়দানে শিক্ষকরা (Teacher Candidates)। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী তালিকায় এ বার নজর কেড়েছে তাঁদের দ্বৈত ভূমিকা (Dual Roll)। একদিকে যেমন SIR-এ বেড়েছে কাজের চাপ। অন্যদিকে আছে মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিকে খাতা দেখার চাপ। তারপরেও তাঁদের দেখা যাচ্ছে জনগণের পাশে, রাজনীতির ময়দানে। আরও পড়ুন: ডায়মন্ড হারবারে টাকা ভর্তি গাড়ি-সহ আটক ২ বিজেপি নেতা

পশ্চিম মেদিনীপুরের রথীপুর বরদা বাণীপীঠের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক রামজীবন মান্ডি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়ছেন। ৫৩ বছর বয়সি এই শিক্ষক এলাকায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের অ্যাথলেটিক্স ও ফুটবলার হিসেবেও পরিচিত। সম্প্রতি অ্যাথলিটের পোশাকে দৌড়তে দৌড়তে প্রচারের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তিনি জানান, এখনও দেশের বিভিন্ন ম্যারাথনে বয়স্কদের বিভাগে নিয়মিত অংশ নেন। তাঁর লক্ষ্য, আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় সাঁওতালি ছেলেমেয়েদের খেলাধুলায় এগিয়ে নিয়ে যেতে ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়ন করা। নির্বাচনে জয়ী হলে স্থানীয় ক্লাবগুলিকে সঙ্গে নিয়ে স্টেডিয়াম গড়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

অন্যদিকে, বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী সুদীপ্ত গুপ্ত পেশায় ইছলাবাদ হাই স্কুলের ভূগোলের শিক্ষক। প্রার্থী হওয়ার পরও তিনি স্কুলের দায়িত্ব পালন করেছেন। ফার্স্ট সামেটিভ পরীক্ষার সিলেবাস সম্পূর্ণ করার পরই নির্বাচনী প্রচারে মন দিয়েছেন। সোমবার তাঁর মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা। তিনি জানান, ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার ক্ষতি না হওয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। মাধ্যমিকের খাতা মূল্যায়নের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ করেছেন এবং প্রয়োজন হলে প্রচারের ফাঁকেই বাড়ি থেকে খাতা দেখে পাঠানোর কথাও বলেন তিনি। কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সাবলু বর্মন মাথাভাঙা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৪৩ বছর বয়সি এই প্রার্থী পূর্বে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কলেজের ক্লাস নেওয়ার ক্ষেত্রে কখনও অবহেলা করেন না।

শিক্ষক-প্রার্থীদের এই প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পেশাগত দায়িত্ব পালন করেই তাঁরা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতে চান। অনেকেই পরীক্ষার খাতা দেখে, সিলেবাস শেষ করে বা প্রশাসনিক দায়িত্ব সম্পন্ন করে তবেই নির্বাচনী প্রচারে নেমেছেন। ফলে শিক্ষার মান বজায় রাখার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ—দুই ক্ষেত্রেই নিজেদের ভূমিকা রাখতে সচেষ্ট এই প্রার্থীরা।

–

–

–

–

–
–

